গঙ্গার উজানে নতুন জলবিদ্যুৎ পরিকল্পনা বাতিল

ভারতের উত্তরাখণ্ডে গঙ্গার উজানে নতুন কোনো জলবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার (২০ মে) ভারতের সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা এক হলফনামায় সরকার জানায়, অলকানন্দা ও ভাগীরথী নদী অববাহিকায় বর্তমানে চলমান বা নির্মাণের শেষ পর্যায়ে থাকা সাতটি প্রকল্প ছাড়া নতুন কোনো জলবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না।
সরকার বলছে, গঙ্গা অববাহিকার ভঙ্গুর পরিবেশ, ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গঙ্গার উজানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৩ সাল থেকেই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আসছে। ওই বছর কেদারনাথে ভয়াবহ বন্যার পর আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি আমলে নেয়।
সাতটি প্রকল্প ছাড়া সব বন্ধ
আদালতে দাখিল করা হলফনামায় কেন্দ্র জানিয়েছে, গঙ্গার উজানে কেবল আগে থেকে অনুমোদিত ও নির্মাণাধীন সাতটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কঠোর পরিবেশগত নিয়ম মেনে চালু রাখা যাবে। এর বাইরে নতুন কোনো প্রকল্প আর হাতে নেওয়া যাবে না।
অনুমতি পাওয়া এই সাতটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে তেহরি স্টেজ-২, তাপোবন বিষ্ণুগড়, বিষ্ণুগড় পিপলকোটি, সিগনোলি ভাতওয়ারী, ফাটা ব্যুং, মধুমহেশ্বর এবং কালিগঙ্গা-২। সরকার স্পষ্ট করে বলেছে, এই সাতটি প্রকল্প ছাড়া অলকানন্দা ও ভাগীরথী নদীর উচ্চ অববাহিকায় ভারত সরকার অন্য কোনো নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পক্ষে নয়।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
ভারতের কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রণালয় দেশটির সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, গঙ্গা নদী ব্যবস্থা অন্য যে কোনো নদী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর জন্য বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন।
আগে একটি বিশেষজ্ঞ দল ২৮টি নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুপারিশ করলেও কেন্দ্র তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে। হলফনামায় বলা হয়, আগের ওই রিপোর্টে বনাঞ্চল ও নদীর সামগ্রিক ক্ষতির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। সব কয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে গঙ্গার স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো।
ঝুঁকিপূর্ণ হিমালয় অঞ্চল
২০১৩ সালের জুনে উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথে ভয়াবহ বন্যায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট গঙ্গার উজানে নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। পরিবেশবিদ রবি চোপড়ার নেতৃত্বাধীন কমিটি জানিয়েছিল, বড় বড় নির্মাণকাজ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো কেদারনাথ বিপর্যয়ের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছিল।
গঙ্গার উচ্চ অববাহিকা অঞ্চলটি ভারতের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্পপ্রবণ ‘জোন-৪’ ও ‘জোন-৫’-এর মধ্যে অবস্থিত। ফলে এলাকাটি ভূমিধস, হড়পা বান ও মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো দুর্যোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
পরিবেশবিদদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়লেও হিমালয়ের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র এবং গঙ্গার উজান দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ভোরের আকাশ/সু.পা