জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে ট্রাম্পের প্রস্তাবে যে শর্তে রাজি রাশিয়া

রাশিয়া ও ইউক্রেনের একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও, ক্রেমলিন স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট কিছু শর্তের দিকে ইঙ্গিত করেছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে সরাসরি আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করার কথা এখনও নিশ্চিত না করা হলেও, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম কমানো এবং এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানান, ট্রাম্পের প্রস্তাবটি 'খুব চমৎকার'। তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম কমানোর তাগিদে শুধু এই উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। পেসকভ বলেন, তেলবাহী জাহাজসহ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও সমুদ্রপথে নিরাপদে পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করাও জরুরি। কিন্তু এখনো কিয়েভ সরকার এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখায়নি।
এর আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। যদিও এখনো দেশ দুইটি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মতির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
মঙ্গলবার ভোরেও ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একটি তেলের পাম্পে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। একই সময়ে কিয়েভের অন্য একটি এলাকায় গুদামেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ক্লিৎসকো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় মেয়র ক্লিৎসকো জানান, হামলায় শহরের একটি তেলের পাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য একটি এলাকায় একটি গুদামেও হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়া একজন প্রত্যক্ষদর্শীও কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগারে হামলা করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের তেলের পাম্পগুলোতে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। গত কয়েক মাসে রাশিয়া প্রায় ৩০০টি তেলের পাম্পে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এসব হামলার বেশির ভাগই ইউক্রেনের শহরাঞ্চলে বা তার আশপাশে চালানো হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল করতেই তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হচ্ছে বলে আগেও অভিযোগ করেছে ইউক্রেন।
ভোরের আকাশ/আ.র