চীনে বিয়ে কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ, জন্মহার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

চীনে জনসংখ্যা সংকট গভীর হওয়ার সাথে সাথে বিয়ের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। চীনের বেসামরিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে দেশটিতে বিয়ের নিবন্ধন প্রায় ১০ শতাংশ (৯.৮%) কমেছে। এই সময়ের মধ্যে মাত্র ৪৬.৪৮ লাখ (৪.৬৪৮ মিলিয়ন) যুগল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ লাখ ৪ হাজার কম।
জনসংখ্যাবিদদের মতে, চীনে ঐতিহ্যগত ও প্রশাসনিকভাবে সন্তান জন্মদানের বিষয়টি বিয়ের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকায় এই ধস আগামী বছরগুলোতে দেশটির জন্মহারকে আরও তলানিতে নিয়ে যাবে।
চীনের গুয়াংডং প্রদেশের স্বতন্ত্র জনসংখ্যাবিদ হে ইয়াফু বলেন, সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের পুরো বছরেও দেশটিতে বিয়ের নিবন্ধন কমতে পারে।
বিয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে জন্মহারের ওপরও। চীনে এখনো সন্তান জন্মদানের সঙ্গে বিয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে চলতি বছরে বিয়ে কম হওয়ায় ২০২৭ সালে জন্মসংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্রমেই কমছে জন্মহার ও জনসংখ্যা
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মাত্র ৭৯ লাখ ২০ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯৫ লাখ ৪০ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জন্মসংখ্যা কমেছে ১৭ শতাংশ।
২০২৫ সালে চীনে প্রতি হাজার মানুষের বিপরীতে জন্মহার ছিল ৫ দশমিক ৬৩। ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর এটিই দেশটির সর্বনিম্ন জন্মহার।
শুধু জন্মহার নয়, কমছে দেশটির মোট জনসংখ্যাও। ২০২৫ সালে চীনের জনসংখ্যা ৩৩ লাখ ৯০ হাজার কমে দাঁড়ায় প্রায় ১৪০ কোটি ৫০ লাখে। টানা চতুর্থ বছরের মতো জনসংখ্যা কমার ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে।
বিয়ে ও সন্তান জন্মদানে উৎসাহ দিচ্ছে সরকার
জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় বিয়ে ও সন্তান জন্মদানে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে চীন সরকার। এর মধ্যে রয়েছে শিশুসন্তানের যত্নে ভর্তুকি, প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষায় সহায়তা বাড়ানো এবং পরিবার গঠনে বিভিন্ন প্রণোদনা।
তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবার ও বিয়ে নিয়ে মানুষের পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি সরকারের এসব উদ্যোগের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা কমে যাওয়া চীনের অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ কর্মশক্তি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিয়ের সংখ্যা কমার সঙ্গে জন্মহার আরও কমে গেলে দেশটিতে বয়স্ক মানুষের অনুপাত বাড়বে এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সংকুচিত হবে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ভোরের আকাশ/আ.র