সৌদিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জবাবে ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলা

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। সৌদি আরবের তিন শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সৌদি জোটের জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড জানায়, খামিস মুসাইত, আবহা ও তায়েফে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু বাড়িঘর ও যানবাহন। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, সৌদির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এসব হামলার ‘যোগ্য ও দায়িত্বশীল জবাব’ দেওয়া হবে।
এর পরের ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের লাহজ, তাইজ, আল-জাউফ, মারিব ও হাজ্জাহ প্রদেশের অন্তত ৫৪টি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়। হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, খামিস মুসাইত ও তায়েফের সৌদি বিমানঘাঁটি থেকে এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান এসব হামলা চালায়। এতে তাইজের একটি সরকারি ভবনসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।
হুতিরা জানিয়েছে, খামিস মুসাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটির রাডার, রানওয়ে ও অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনে আগের পাঁচ দিনে সৌদি যুদ্ধবিমানের ৩০০ হামলার জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয় বলে দাবি তাদের।
এদিকে হামলার আশঙ্কায় জেদ্দা, মক্কা ও তায়েফে ‘জরুরি বিপদ সতর্কতা’ জারি করেছে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাতার সতর্ক করে বলেছে, হরমুজের পর বাব আল-মান্দেব প্রণালিও বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
ভোরের আকাশ/ইউএম