অস্ট্রেলিয়ার টার্গেট ২৭৫

টপ অর্ডারের ব্যাটিং বিপর্যয় যেন বাংলাদেশের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইনিংসের শুরুতে প্রথম ওভারেই উইকেট হারানোর পর মাত্র ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে সেই বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তোলেন লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনজনের ফিফটিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। হোয়াইটওয়াশ এড়াতে ২৭৫ রান করতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।
মিরপুরে টস জিতে একাদশে একাধিক পরিবর্তন এনে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুটা ছিল হতাশাজনক। দলীয় ২ রানে বিদায় নেন সৌম্য সরকার। মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। ফলে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম ওভারেই উইকেট হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা হয় টাইগারদের।
সৌম্যর বিদায়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন তানজিদ হাসান তামিম। দুজন মিলে ৫১ রানের জুটি গড়লেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। ম্যাট রেনশোর স্কিড করা বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে ১৯ রানে থামেন তামিম। তার বিদায়ে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
এরপর সুইপ খেলতে গিয়ে ৫০ বলে ২৪ রান করে ফেরেন শান্ত। ফলে ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
সেই সময় লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় গড়ে তোলেন ৯২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। শুরুতে ধীরগতিতে খেললেও পরে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন লিটন। অন্যদিকে হৃদয় ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও স্থির। তবে ৪৮ রানে থাকা অবস্থায় পায়ের পেশিতে টান লাগায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন লিটন।
লিটনের পর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ক্রিজে এসে ইনিংসের গতি বাড়ান। তাকে সঙ্গে নিয়ে হৃদয় গড়েন আরও একটি ৯৩ রানের জুটি। এই সময় হৃদয় ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি তুলে নেন।
ফিফটির পর আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে ৮৩ রানে থামেন হৃদয়। তবে তার ইনিংস বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। অন্যদিকে মোসাদ্দেক ৪৩ বলে ফিফটি তুলে নেন।
শেষ দিকে চোট কাটিয়ে ফের ক্রিজে আসেন লিটন দাস। ৪৯তম ওভারের শেষ বলে দুই রান নিয়ে তিনি পূর্ণ করেন নিজের বহু প্রতীক্ষিত ফিফটি। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৪তম অর্ধশতক, মিরপুরে প্রথম এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও প্রথম।
শেষ পর্যন্ত লিটন ৫৮ রানে এবং মোসাদ্দেক ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন। তাদের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ ২৭৪ রানের লড়াকু পুঁজি দাঁড় করায়। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন জাভিয়ার বার্টলেট ও ম্যাট রেনশো, একটি উইকেট শিকার করেন বেন ডয়ারশুইস।
ইনটো ঘুরিয়ে কর