ভুটানকে হারিয়েও কোচ ডুলির কৌশল নিয়ে প্রশ্ন

ভুটানকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেলেও দলের পরিকল্পনা ও খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন কোচ থমাস ডুলি। তাঁর কৌশল ও দল পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও ফুটবলাররা।
পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে ডিফেন্ডার হিসেবে খেলা বিশ্বনাথ ঘোষকে শুক্রবার (৫ নভেম্বর) স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলিয়েছেন কোচ। এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি।
তিনি বলেন, ‘সাফ বাংলাদেশের জন্য কোনো পরীক্ষার মঞ্চ নয়। কোনো প্রীতি ম্যাচ হলে তিনি পরীক্ষা করতে পারতেন। শুক্রবার বাংলাদেশ গোল না পেলে, ম্যাচ ড্র হলে বড় চাপে পড়তে হতো। আমি বিশ্বনাথকে দোষ দেব না। সে তার সামর্থ্যের পুরোটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোচ তাকে কেন সেখানে খেলাবেন?’
বাংলাদেশ দলে দীর্ঘদিন ধরেই একজন স্বীকৃত নাম্বার নাইন বা কেন্দ্রীয় স্ট্রাইকারের সংকট রয়েছে। এবার দুই প্রবাসী ফুটবলার রোনান ও মাহে খানের ওপর ভরসা ছিল দলের। তবে চোটের কারণে আসতে পারেননি রোনান। অন্যদিকে, মাহে খানকে নিয়ে কোচ নিজেই প্রত্যাশার কথা জানালেও তাঁকে ২৩ সদস্যের দলে রাখেননি। এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এমিলি।
তাঁর ভাষ্য, ‘নাম্বার নাইন দলে এখন একজনই। কোচ তাঁর এত প্রশংসা করে এখন কেন ২৩ জনে রাখবেন না, সেটা বোধগম্য নয়।’
ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক বদলি খেলোয়াড় ইব্রাহিম। মাঠে নেমেই ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন তিনি। ফর্টিজের হয়ে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে সফল এই ফরোয়ার্ডকে শুরুর একাদশে না রাখায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সাবেক অধিনায়ক এমিলি।
তিনি বলেন, ‘ইব্রাহিম ও সোহেল রানা নামার পরই খেলার চিত্র বদলেছে। ইব্রাহিম পরীক্ষিত ফরোয়ার্ড, সে খুব ফর্মে রয়েছে। তাকে শুরু থেকে খেলানো উচিত ছিল।’
তবে বিশ্বনাথকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব বেশি সমালোচনা করেননি জাতীয় দলের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদ। কিন্তু দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হতে পারেননি তিনিও।
আলফাজ বলেন, ‘কোচরা অনেক সময় খেলোয়াড়দের পজিশন বদলে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেন। কালকের খেলায় পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাব ছিল ব্যাপক। পরের ম্যাচে অবশ্যই ইব্রাহিমকে শুরুতে খেলানো উচিত।’
বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এর আগে আগামী পরশু শ্রীলঙ্কার কাছে ভুটান হারলে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে। তবে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে প্রবাসী ফুটবলারনির্ভর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
৯ নভেম্বর ফিফা উইন্ডো শুরুর দিন হামজা ও ফারহানের জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁদের অন্তর্ভুক্তির পর দলের শক্তি বাড়লেও ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগে নতুন করে ভাবনার জায়গা তৈরি করেছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা