রক্ষণাত্মক কৌশলেই কি আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ডের স্বপ্নভঙ্গ

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের বেদনা ইংল্যান্ডের জন্য নতুন নয়। তবে এবারের হার নিঃসন্দেহে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে হতাশাজনকগুলোর একটি। এর আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ইংলিশদের। সেই ম্যাচে তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সমানতালে লড়াই করে শেষ মুহূর্তে সমতাও ফিরিয়েছিল।
এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। প্রত্যাশার চেয়ে ভালো খেলেও শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ওঠা হয়নি তাদের।
আটলান্টায় বুধবার রাতের সেমিফাইনালেও একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটল। ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। পুরো ম্যাচজুড়েই দলটিকে আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি গোছানো ও কার্যকর মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে টানা দুই গোল হজম করে ২-১ ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার শারীরিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দারুণভাবে সামলে দেয় ইংল্যান্ড। রক্ষণভাগ ছিল সংগঠিত, আর আর্জেন্টিনাকে অনেকটাই নিষ্প্রভ দেখাচ্ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ‘হাইড্রেশন ব্রেক’-এর পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
বিরতির পর কোচ থমাস টুখেল কৌশল বদলে ৫-৪-১ রক্ষণাত্মক ফরমেশনে দলকে খেলান। এতে আর্জেন্টিনা আরও বেশি আক্রমণে উঠে আসার সুযোগ পায়। একের পর এক আক্রমণের চাপে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেঙে পড়ে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আর্জেন্টিনার হাতে।
এই হারের পর টুখেলের অতিরক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ম্যাচ শেষে বিবিসিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও পরোক্ষভাবে সেই ইঙ্গিত দেন।
কেইন বলেন, "ম্যাচের বেশির ভাগ সময় আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হয়েছে, আমরা শুধু লিড ধরে রাখার চেষ্টাই করেছি। এই পর্যায়ের ফুটবলে শুধু রক্ষণ সামলে জয় নিশ্চিত করা কঠিন। তাই এই হার খুবই কষ্টের। এখানে পৌঁছাতে আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "ওরা গোলের পর আক্রমণে আরও বেশি খেলোয়াড় তুলেছিল, নাকি আমরা ম্যান-মার্কিং ঠিকভাবে করতে পারিনি—সেটা নিশ্চিত নই। তবে আমরা শুধু একের পর এক আক্রমণ সামলে লিড ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। শেষ পর্যন্ত সেটাই যথেষ্ট হয়নি।"
ভোরের আকাশ/সু.পা