কোলে নেওয়া সেই ছোট্ট ইয়ামালই ফাইনালে মেসির প্রতিপক্ষ

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দল। এবার আরও একটি নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবলবিশ্ব। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ও কোপা আমেরিকা জয়ী দল। আগামী ১৯ জুলাই আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনালে ফুটবলপ্রেমীরা দেখতে যাচ্ছে এক রোমাঞ্চকর সমাপ্তি।
আসন্ন ফাইনালের সব আলো কেড়ে নিচ্ছেন দুই প্রজন্মের দুই তারকা—লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। তাদের মুখোমুখি হওয়ার আগে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ঐতিহাসিক ছবি, যেখানে মাত্র ছয় মাস বয়সী ইয়ামালকে কোলে নিয়ে হাসতে দেখা যায় তরুণ মেসিকে।
সম্প্রতি সেই ছবির গল্প নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন স্পেনের ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল।
স্পেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠা ইয়ামাল এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি মেসির মুখোমুখি হওয়া তার জন্য কতটা বিশেষ। এবার সেই স্বপ্নই পূরণ হতে যাচ্ছে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা।
মেসির বিপক্ষে খেলা প্রসঙ্গে ক্রীড়াভিত্তিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ডিএজেডএনকে ইয়ামাল বলেন, “আমি এখন কিছুটা বড় হয়েছি, লিওরও বয়স বেড়েছে। আশা করছি ফাইনালে তার মুখোমুখি হতে পারব। বিশেষ করে ফিনালিসিমা (ইউরো ও কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়নদের মধ্যকার ম্যাচ) অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এই ফাইনালটি আমার জন্য অনেক বড় সুযোগ।”
২০০৭ সালে বার্সেলোনা ফাউন্ডেশনের একটি দাতব্য কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তোলা হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক ছবিটি। ইউনিসেফের একটি লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। সেই নির্বাচিত পরিবারগুলোর একটি ছিল ইয়ামালের পরিবার।
তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেননি, ছবির তরুণ মেসি একদিন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠবেন। আর তার কোলে থাকা ছোট্ট শিশুটি একসময় পরিণত হবে ফুটবলের অন্যতম বিস্ময় বালকে।
সময় বদলেছে, বদলেছে প্রেক্ষাপটও। এবার আর কোনো দাতব্য অনুষ্ঠান বা ফটোশুট নয়—ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি ও ইয়ামাল। ইতিহাসের পাতায় নতুন এক গল্প লেখার অপেক্ষায় পুরো ফুটবলবিশ্ব।
ভোরের আকাশ/সু.পা