সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণ ও পাসপোর্টে নতুন নিয়ম

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জিও ও অনাপত্তি সনদের ভিত্তিতে অফিসিয়াল ও সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু এবং বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কড়া নির্দেশনা দিয়ে নতুন পরিপত্র জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এই নতুন নিয়মে সরকারি কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট তৈরি ও বিদেশ যাত্রায় স্বচ্ছতা আনতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।এতে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও অধস্তন অফিসে কর্মরত রাজস্বখাতভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি আদেশের (জিও) ভিত্তিতে বিনা ফিতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে।
জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের স্থায়ী কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি আদেশ (জিও) অথবা কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দিয়ে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে অফিসিয়াল পাসপোর্ট নিতে পারবেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, সুপ্রিম কোর্ট, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণে একই সুবিধা রাখা হয়েছে।
স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ আইন, অধ্যাদেশ বা আদেশে প্রতিষ্ঠিত কমিশন ও কর্তৃপক্ষের ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের জারি করা জিওর ভিত্তিতে বিনা ফিতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া হবে। তবে ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাদের সাধারণ পাসপোর্ট নিতে হবে।
উন্নয়ন প্রকল্পে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োজিত এবং উন্নয়ন খাত থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের জিওরভিত্তিতে বিনা ফিতে সাধারণ পাসপোর্ট পাবেন। ব্যক্তিগত ভ্রমণের ক্ষেত্রেও জিও অথবা এনওসির ভিত্তিতে নির্ধারিত ফি দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়া যাবে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও জিওর ভিত্তিতে বিনা ফিতে সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত ভ্রমণে জিও অথবা এনওসির ভিত্তিতে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়া যাবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণ ফিতে জরুরি সেবা এবং জরুরি ফিতে অতীব জরুরি সেবা নেওয়া যাবে। সরকারি সফরে বেসরকারি ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে তাদেরও জিওর ভিত্তিতে সাধারণ পাসপোর্টের জরুরি ও অতীব জরুরি সেবা দেওয়া যাবে।
বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে কর্মরত নন-ডিপ্লোমেটিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২৫ বছর বা তার কম বয়সী সন্তানদের বিনা ফিতে পাঁচ বছর মেয়াদি অফিসিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া হবে। সরকারি চাকরিজীবী স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এনওসি প্রয়োজন হবে। মিশনে কর্মকাল শেষ হলে তাদের অফিসিয়াল পাসপোর্ট সমর্পণ করতে হবে।
অন্যদিকে, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে ডিপ্লোমেটিক পদমর্যাদায় কর্মরত কর্মকর্তাদের Domestic Aide-দের নিয়োগসংক্রান্ত সরকারি অনুমোদন যাচাই করে নির্ধারিত ফি নিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি অফিসিয়াল পাসপোর্ট দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। মিশনে কর্মকাল শেষ হলে তাদেরও পাসপোর্ট সমর্পণ করতে হবে।
নতুন নির্দেশনায়, অফিসিয়াল পাসপোর্টের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে নির্ধারিত মেয়াদ ও অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) শেষ হওয়ার তারিখের মধ্যে যেটি পরে হবে, সেই তারিখ পর্যন্ত অফিসিয়াল পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে। পিআরএল চলাকালে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অফিসিয়াল পাসপোর্ট পরিবর্তন করে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে পারবেন।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের অফিসিয়াল পাসপোর্ট পাওয়ার প্রাধিকার থাকা কর্মকর্তাদের প্রাধিকার বহাল থাকা অবস্থায় শুধু অফিসিয়াল পাসপোর্টই ইস্যু করা হবে। সাধারণ পাসপোর্ট নিতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিতে হবে।
জিও ও এনওসির সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থাকে একজন ফোকাল পয়েন্ট এবং একজন বিকল্প ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। তাদের পদবি, টেলিফোন, মোবাইল ফোন নম্বর ও ই-মেইলসহ হালনাগাদ তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
এছাড়া জারি করা জিও ও এনওসি ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফোকাল পয়েন্ট পরিবর্তন হলে তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করতে হবে।
ইতোপূর্বে অফিসিয়াল ও সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু সংক্রান্ত জারি করা পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনাগুলো সমন্বয় ও সংশোধন করে নতুন এই পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে।
ভোরের আকাশ/আ.র