ঘূর্ণিঝড়ে কুলাউড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

কুলাউড়ায় বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় । ঝড়ের প্রভাবে উপজেলার রাউৎগাঁও, ব্রাহ্মণবাজার, পৃথিমপাশা, কুলাউড়া সদর, টিলাগাঁও ও হাজীপুর ইউনিয়নের অনেক বাড়িঘর, গাছপালা এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বুধবার রাত ১০ পর্যন্ত টানা ১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন রয়েছেন উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার দিনে ব্যাপক ঘূর্ণিঝড়ের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। বিভিন্ন সড়কে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারে সরকারি হাসপাতালের সম্মুখে প্রধান সড়কে শতবর্ষী একটি গাছের বড় একটি ঢাল (কান্ড) পড়ে একটি অটোরিকশা এবং কয়েকটি দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাউৎগাঁও ইউনিয়নের পীরের বাজার, নর্তন, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারসহ কয়েকটি গ্রামে ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অনেক জায়গায় টিনের চাল উড়ে গেছে এবং বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। ঝড়ের সময় হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে ঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা ভীত ও দুশ্চিন্তায় পড়েন।
টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: আব্দুল বাছিত জানান, "ঝড়ে ইউনিয়নের অনেকগুলো ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে। বিভিন্ন সড়কসহ মানুষের বসতবাড়ির গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
রাউৎগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মুক্তাদির মনু বলেন, "আকস্মিক ঝড়ের আঘাতে রাউৎগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৫-৩০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবানীপুর রাস্তার পাশে বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ে সীমানা প্রাচীর, পাকা রাস্তা এবং বৈদ্যুতিক লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।"
পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: সেলিম আহমদ চৌধুরী জানান, "ঝড়ের আঘাতে ইউনিয়নের ঘরবাড়ি ও রবিরবাজারের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা ভেঙে সড়কে পড়ে আছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগকে অবগত করা হয়েছে।"
কুলাউড়া বনবিভাগের বন কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, "হঠাৎ ঝড়ে কুলাউড়ার বিভিন্ন সড়কে অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে। বনবিভাগের তিনটি টিম ভেঙ্গে পড়া গাছ অপসারণ করে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।"
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কুলাউড়া সাবজোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) আব্দুল্লা আল মামুন জানান, বুধবারের ঘূর্ণিঝড়ে কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে যায়। এছাড়া প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানে বৈদ্যুতিক লাইনে গাছপালা উপড়ে পড়ে। এতে শতাধিক স্থানে বৈদ্যুতিক লাইনে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎ বিহীন রয়েছে। কিছু এলাকায় বুধবার রাত ১০ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ লাইন স্বাভাবিক হলেও ক্ষতিগ্রস্ত বাকী লাইন মেরামত কাজ চলমান রয়েছে।
কুলাউড়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহাদাত হোসেন জানান, "ঝড়ে সড়কের পাশের গাছ ভেঙে বিদ্যুতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন স্বাভাবিক করতে কাজ চলমান আছে।"
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহিউদ্দিন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের পর বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানদেরর মাধ্যমে জানতে পেরেছি অনেকের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের চূড়ান্ত তালিকা হাতে পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতার জন্য আবেদন করা হবে।
কুলাউড়ার বিভিন্ন সড়কের দুইপাশে ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছ কর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রায় দুই মাস আগে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যানরা বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে বনবিভাগকে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কর্তনের বিষয়ে বলা হয়েছিল। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেয়ার জন্য বনবিভাগের কর্মকর্তাকে বলা হবে।
ভোরের আকাশ/নি