অভাব-অনটন থেকে মুক্তির উপায়: নবীজি (সা.)-এর পরামর্শ করা দোয়া

জীবনে অভাব-অনটন একটি স্বাভাবিক পরীক্ষা। আল্লাহ তাআলা অনেক সময় মানুষকে ধন-সম্পদ না দিয়ে ধৈর্যের পরীক্ষা নেন। তবে এই অবস্থায়ও তিনি বান্দার জন্য রহমতের দুয়ার খুলে রাখেন। তাই সংকটে হতাশ না হয়ে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা মুমিনের কর্তব্য।
পবিত্র কোরআনের সুরা ইবরাহিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেছিলেন, তোমরা যদি কৃতজ্ঞ হও, তবে আমি তোমাদের আরও দেব; আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে শাস্তি হবে কঠিন।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৭)
অভাব-অনটনের সময় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কিছু বিশেষ দোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যেগুলো পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাকে রিজিক ও শান্তি দিয়ে অভাব দূর করে দেন।
অভাব থেকে মুক্তির জন্য হাদিসে বর্ণিত দোয়া
اللّهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ، وَالْقِلَّةِ، وَالذِّلَّةِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَظْلِمَ أو أُظْلَمَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল ফাকরি, ওয়াল কিল্লাতি, ওয়াজ-জিল্লাতি, ওয়া আউজুবিকা মিন আন-আজলিমা আও উজলামা।
উৎস: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৪৪
বাংলা অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দারিদ্র্য, অভাব এবং অপমান থেকে। এবং আমি আশ্রয় চাই, যেন কাউকে জুলুম না করি বা অন্য কারও জুলুমের শিকার না হই।”
রিজিক বৃদ্ধির জন্য কোরআনি দোয়া
اللّٰهُمَّ رَبَّنَاۤ اَنۡزِلۡ عَلَیۡنَا مَآئِدَۃً مِّنَ السَّمَآءِ...
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বানা আনজিল আলাইনা মায়িদাতাম মিনাস সামায়ি তাকুন লানা ঈদান লিআউওয়ালিনা ওয়া আখিরিনা, ওয়া আয়াতাম মিনকা, ওয়ার জুকনা ওয়া আনতা খাইরুর রাযিকিন।
উৎস: সুরা মায়িদা, আয়াত: ১১৪
বাংলা অর্থ: “হে আল্লাহ, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের জন্য আসমান থেকে খাবারপূর্ণ দস্তরখান নাজিল করুন, যা আমাদের জন্য ও আমাদের পূর্ব-পশ্চাৎ প্রজন্মের জন্য উৎসবের উপলক্ষ হবে। এটি আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আমাদের রিজিক দিন, আপনি শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।”
ইস্তেগফারের ফজিলত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার (আস্তাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বি ওয়া আতুবু ইলাইহি) করবে, আল্লাহতায়ালা তার সব সংকট থেকে মুক্তির রাস্তা খুলে দেবেন, চিন্তা-দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন যা তার কল্পনারও বাইরে।”
উৎস: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৫১৮
অভাব-অনটন জীবনের অংশ হলেও ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে দোয়ার মাধ্যমে তা থেকে পরিত্রাণ সম্ভব। হালাল উপায়ে উপার্জন ও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জীবন পরিচালনা করলে রিজিকের দরজা খুলে যায় বলে জানিয়েছেন ইসলামি বিশেষজ্ঞরা।
ভোরের আকাশ//হ.র