শিরোনাম
চালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলাচালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

ইসলামের দৃষ্টিতে আমানতদার ব্যক্তির মর্যাদা কতটা?

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৮ জুলাই ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মানবচরিত্রের সবচেয়ে মহৎ ও শ্রেষ্ঠ গুণগুলোর অন্যতম হলো সততা (আমানতদারিতা) এবং বিশ্বস্ততা। ইসলাম কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ধর্মের নাম নয়, বরং এটি মানুষের আচার-ব্যবহার, লেনদেন ও চরিত্রকে নিখুঁত করার এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ইসলামে সততা ও আমানতদারিতাকে ঈমানের পরিমাপক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আর এ কারণেই এই দুটি গুণের চর্চা এবং তা বজায় রাখার ব্যাপারে শরিয়তের বিধান অত্যন্ত কঠোর।

পবিত্র কোরআন, হাদিস এবং সুন্নাহর আলোকে সততা ও আমানতদারিতার গুরুত্ব এবং এ বিষয়ে ইসলামের কঠোর হুঁশিয়ারি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. সততা ও আমানতদারিতা: ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ

ইসলামের দৃষ্টিতে যার মধ্যে সততা ও আমানতদারিতা নেই, তার ঈমানের দাবি অর্থহীন। বাহ্যিক বড় বড় ইবাদত করলেও অন্তরে কপটতা থাকলে তা প্রকৃত ঈমানদার হওয়ার লক্ষণ নয়।

বিশ্বনবী রাসুলুল্লাহ ﷺ জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তাঁর খুতবা বা বক্তৃতায় একটি কথা প্রায়ই পুনর্ব্যক্ত করতেন: “যার মধ্যে আমানতদারিতা নেই, তার মধ্যে কোনো ঈমান নেই। আর যে ব্যক্তি অঙ্গীকার রক্ষা করে না, তার মধ্যে কোনো দ্বীন (ধর্ম) নেই।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং- ১২৩৮৩)

২. মুনাফিকের প্রধান লক্ষণ: অসততা ও খেয়ানত

যাদের মুখে এক আর অন্তরে অন্য এবং যারা সমাজে সততার মুখোশ পরে অসৎ কাজ করে, তাদের ইসলাম ‘মুনাফিক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আর মুনাফিকদের জন্য পরকালে রয়েছে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি।

রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: “মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি—১. যখন সে কথা বলে, মিথ্যা বলে; ২. যখন সে ওয়াদা করে, তা ভঙ্গ করে এবং ৩. যখন তার কাছে কোনো কিছু আমানত রাখা হয়, সে তার খেয়ানত (আত্মসাৎ) করে।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৩৩)

৩. আল্লাহর কঠোর নির্দেশ ও হুঁশিয়ারি

আমানতদারিতা রক্ষা করা এবং সর্বাবস্থায় সত্য কথা বলা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি ফরজ নির্দেশ।

কোরআনের নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেছেন:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানতসমূহ তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দাও।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৮)

হতাশার বাণী: অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের সতর্ক করে বলেছেন: “হে মুমিনগণ! তোমরা জেনে-শুনে আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং তোমাদের পারস্পরিক আমানতের খেয়ানত করো না।” (সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ২৭)

৪. ব্যবসার ক্ষেত্রে সততা ও ইসলামের কঠোর অবস্থান

লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মানুষ সবচেয়ে বেশি অসততার আশ্রয় নেয়। ইসলাম এখানে সবচেয়ে কঠোর সীমারেখা টেনে দিয়েছে। ওজনে কম দেওয়া, খাদ মেশানো বা মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রি করাকে ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কোরআনের হুঁশিয়ারি: যারা ওজনে কম দেয় এবং মাপে কারচুপি করে, তাদের জন্য কোরআনে ‘ওয়াইল’ বা ধ্বংসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে (সূরা আল-মুতাকফিফীন, আয়াত: ১-৩)।

সৎ ব্যবসায়ীদের মর্যাদা: অন্যদিকে যারা সততা বজায় রাখে, তাদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ পুরস্কার। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক (সত্যবাদী) এবং শহীদদের সঙ্গী হবেন।” (জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং- ১২০৯)

৫. দায়িত্ব ও ক্ষমতার আমানত

আমানতদারিতা কেবল টাকা-পয়সা বা সম্পদ গচ্ছিত রাখার নাম নয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, অফিসের চাকরি, বিচারকের আসন, এমনকি পরিবারের দায়িত্বও একেকটি বড় আমানত।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন রাখাল (দায়িত্বশীল) এবং প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের (দায়িত্বের) বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে।” (সহীহ বুখারী) যদি কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে লবিং বা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিকে কোনো পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে ইসলাম তাকে ‘আমানতের খেয়ানত’ এবং কিয়ামতের আলামত হিসেবে ঘোষণা করেছে।

অসততা ও খেয়ানতের পরিণতি:

আরও পড়ুন

বিমানবন্দরে যাত্রী পরিবহনে বিনামূল্যে শাটল বাস সুবিধা

দোয়া কবুল না হওয়া: অসৎ উপায়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলে বা হারাম খেলে সেই ব্যক্তির কোনো ইবাদত ও দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।

পরকালে দেউলিয়া হওয়া: যদি কেউ দুনিয়াতে মানুষের হক বা আমানত আত্মসাৎ করে, তবে কিয়ামতের দিন তার সমস্ত নেক আমল বা সওয়াব ভুক্তভোগী মানুষকে দিয়ে দিতে হবে। সওয়াব শেষ হয়ে গেলে ভুক্তভোগীর গুনাহ নিজের কাঁধে নিয়ে জাহান্নামে যেতে হবে।

ইসলামে সততা ও আমানতদারিতা কেবল একটি নৈতিক গুণ নয়, এটি পরকালীন মুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত—সর্বক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা প্রতিটি মুসলমানের ওপর আবশ্যক। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম সততা ও বিশ্বস্ততা বজায় রাখার তৌফিক দান করুন। আমীন।

ইসলামিক শিক্ষাহাদিসইসলাম

শেয়ার করুন: