শিরোনাম
চালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলাচালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

কোরআন-হাদিসের আলোকে সাত শ্রেণির মানুষের পরিণতি

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ১ জুলাই ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মানবজাতিকে দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতার পথ দেখাতে অবতীর্ণ হয়েছে পবিত্র ইসলাম। ইসলাম যেমন মানুষকে বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে জান্নাত লাভের সুসংবাদ দেয়, তেমনই কিছু জঘন্য পাপ ও অভ্যাসের কারণে ইহকাল ও পরকালে চরম ধ্বংস এবং জাহান্নামের কঠোর সতর্কবার্তাও প্রদান করে।

হাদিস শরিফে এমন সাত শ্রেণির মানুষের কথা বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে, যাদের ঘৃণ্য অপরাধের কারণে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ ﷺ ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছেন অথবা আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন। নিচে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে সেই সাত শ্রেণির মানুষের বিবরণ তুলে ধরা হলো:

১. সাতটি ধ্বংসাত্মক মহাপাপে লিপ্ত ব্যক্তি (মুূবিকাত)
ইসলামে এমন সাতটি বড় পাপ রয়েছে যা মানুষের ইহকালীন জীবনকে ধ্বংস করে এবং পরকালে চিরস্থায়ী জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
“তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক মহাপাপ থেকে বেঁচে থাকো।” সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! সেগুলো কী?’ তিনি বললেন—১. আল্লাহর সাথে শরিক করা (শিরক), ২. জাদু করা, ৩. অন্যায়ভাবে কোনো প্রাণ নাশ করা, ৪. সুদের টাকা খাওয়া, ৫. ইয়াতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা, ৬. রণাঙ্গন থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং ৭. পবিত্রা মুমিন নারীর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়া। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ২৭৬৬)

২. মুনাফিক বা কপট চরিত্রের মানুষ
মুখে ঈমানের দাবি করলেও অন্তরে কুফরি লালন করা এবং সমাজে ফিতনা সৃষ্টিকারী মুনাফিকদের জন্য ইসলামে সবচেয়ে ভয়াবহ ধ্বংসের আজাব নির্ধারিত রয়েছে।

  • কোরআনের ঘোষণা: “নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৪৫)। হাদিস অনুযায়ী—যারা কথায় কথায় মিথ্যা বলে, আমানতের খেয়ানত করে, ওয়াদা ভঙ্গ করে এবং ঝগড়া লাগলে গালিগালাজ করে, তারা এই ধ্বংসের অন্তর্ভুক্ত।

৩. সুদের সাথে জড়িত চার শ্রেণির মানুষ
সমাজ ও অর্থনীতিকে ধ্বংসকারী শোষণের অন্যতম হাতিয়ার হলো সুদ। ইসলামে সুদখোরদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

হযরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসুলুল্লাহ ﷺ লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন—সুদখোর (গ্রহণকারী), সুদ দাতা (প্রদানকারী), সুদের হিসাব লেখক এবং এর ওপর সাক্ষ্যদানকারী দ্বয়কে। তিনি বলেছেন, (পাপের দিক থেকে) তারা সকলেই সমান।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং- ১৫৯৮)

৪. ওজনে কম দেওয়া ব্যবসায়ী (মুতাফফিফীন)
ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা ইসলামের অন্যতম বড় শিক্ষা। কিন্তু যারা ক্রেতাদের ঠকিয়ে ওজনে কম দেয়, তাদের জন্য কোরআনে সরাসরি ‘ওয়াইল’ বা ধ্বংসের উপত্যকার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

  • কোরআনের ঘোষণা: “ধ্বংস বা দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা ওজনে কম দেয়। যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় নেয়, আর যখন তাদেরকে মেপে বা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।” (সূরা আল-মুতাকফিফীন, আয়াত: ১-৩)

৫. ইয়াতিমের সম্পদ আত্মসাৎকারী
অসহায় ও পিতৃহীন শিশুদের লালন-পালনের নির্দেশ দিয়ে ইসলাম ইয়াতিমের অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। যারা ক্ষমতার জোরে ইয়াতিমের হক বা সম্পদ লুটে নেয়, তারা নিজেদের পেট আগুনের অঙ্গার দিয়ে পূর্ণ করে।

  • কোরআনের ঘোষণা: “নিশ্চয়ই যারা ইয়াতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা মূলত নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করছে এবং খুব শীঘ্রই তারা প্রজ্বলিত আগুনে (জাহান্নামে) প্রবেশ করবে।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০)

৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী
পারিবারিক বন্ধন ও আত্মীয়তার অধিকার রক্ষা করা ফরজের অন্তর্ভুক্ত। যারা তুচ্ছ দুনিয়াবি কারণে নিজের ভাই-বোন, মা-বাবা বা আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ভেঙে দেয়, তাদের দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানেই ধ্বংস অনিবার্য।

রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: “আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৫৯৮৪)। অন্য হাদিসে এসেছে, এমন মানুষের নেক আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।

৭. অহংকারী ও দাম্ভিক ব্যক্তি
অহংকার বা কিবর হলো সমস্ত পাপের মূল। আল্লাহ তাআলা বিনয়ী মানুষকে পছন্দ করেন এবং নিজেকে বড় মনে করা বা মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা দাম্ভিকদের ধ্বংস করে দেন।

রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: “যার অন্তরে কণা পরিমাণও অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং- ৯১)। কিয়ামতের দিন অহংকারীদের পিপীলিকার ন্যায় লাঞ্ছিত অবস্থায় হাশরের ময়দানে তোলা হবে।

আরও পড়ুন

ফরিদপুরে দুই বিরিয়ানি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

বাঁচার উপায় ও তাওবা:
ইসলাম মানুষকে কেবল সতর্ক করেই ক্ষান্ত হয় না, বরং ধ্বংসের এই পথ থেকে ফিরে আসার দরজাও খোলা রেখেছে।

  • তাওবায়ে নাসুহা: কোনো মানুষ যদি ওপরের যেকোনো অপরাধে লিপ্ত হয়েও থাকে, তবে মৃত্যুর আগে খাঁটি অন্তরে লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে এবং মানুষের হক (যেমন ইয়াতিমের সম্পদ, ওজনে কম দেওয়া) ফিরিয়ে দিলে আল্লাহ তাআলা পরম দয়ালু, তিনি ক্ষমা করে দেন।

ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার লোভ, হিংসা ও অহংকারের বশে আমরা যেন এমন কোনো কাজে লিপ্ত না হই, যা আমাদের অনন্তকালের জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই ধ্বংসাত্মক আমলগুলো চিনে তা থেকে দূরে থাকার এবং হেদায়েতের পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।

ভোরের আকাশ/জেআ

কোরআন হাদিসইসলামইসলামের শিক্ষা

শেয়ার করুন: