৪২ বছরে পা দিলেন ক্যাটি পেরি, সাফল্যের পেছনে রয়েছে যে গল্প

বিশ্বজুড়ে পপসংগীতের পরিচিত মুখ ক্যাটি পেরির ৪২তম জন্মদিন আজ। ১৯৮৪ সালের ২৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় জন্মগ্রহণ করেন এই গায়িকা। গির্জায় গান গাওয়া দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর সংগীতযাত্রা। নানা বাধা ও ব্যর্থতা পেরিয়ে একসময় তিনি হয়ে ওঠেন আন্তর্জাতিক পপসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা। সংগীতের পাশাপাশি টেলিভিশন, ব্যবসা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য।
ক্যাটি পেরির প্রকৃত নাম ক্যাথরিন এলিজাবেথ হাডসন। ছোটবেলায় গির্জায় গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে গান লেখা ও রেকর্ডিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ন্যাশভিলে যাতায়াত শুরু করেন তিনি। ২০০১ সালে ‘ক্যাটি হাডসন’ নামে একটি গসপেল অ্যালবাম প্রকাশ করলেও তা প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।
পরবর্তী সময়ে পপসংগীতে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলতে লস অ্যাঞ্জেলেসে পাড়ি জমান ক্যাটি। ২০০৭ সালে ক্যাপিটল রেকর্ডসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। ২০০৮ সালে প্রকাশিত ‘আই কিসড আ গার্ল’ গানটি তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি এনে দেয়। এরপর ‘হট এন কোল্ড’, ‘ক্যালিফোর্নিয়া গার্লস’, ‘ফায়ারওয়ার্ক’, ‘রোর’ ও ‘ডার্ক হর্স’-এর মতো গান তাঁকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে।
২০১০ সালে প্রকাশিত তাঁর অ্যালবাম ‘টিনএজ ড্রিম’ ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। অ্যালবামটি থেকে পাঁচটি গান যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নেয়। এক অ্যালবাম থেকে পাঁচটি নম্বর ওয়ান গান পাওয়ার কৃতিত্ব তাঁকে সংগীতজগতের বিশেষ অবস্থানে নিয়ে যায়।
সংগীতের পাশাপাশি টেলিভিশনেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন ক্যাটি পেরি। ২০১৮ সালে জনপ্রিয় প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘আমেরিকান আইডল’-এর বিচারক হিসেবে যোগ দেন তিনি। টানা সাত মৌসুম অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই তারকা। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটিতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করে প্রতি মৌসুমে তাঁর পারিশ্রমিক ছিল প্রায় আড়াই কোটি ডলার।
সংগীত থেকে শতকোটি ডলারের সম্পদ
ক্যাটি পেরির সম্পদের বড় অংশ এসেছে গান, কনসার্ট, টেলিভিশন ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক উদ্যোগ থেকে। ২০২৩ সালে তাঁর ২০০৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রকাশিত পাঁচটি অ্যালবামের সংগীতস্বত্ব-সংশ্লিষ্ট আয় ও প্রকাশনা-স্বত্বের অংশ লিটমাস মিউজিকের কাছে বিক্রি করেন তিনি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ চুক্তির মূল্য প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সুগন্ধি, জুতা, পোশাক ও পানীয়ের ব্যবসায়ও যুক্ত হয়েছেন ক্যাটি। তাঁর রয়েছে ‘ক্যাটি পেরি কালেকশন্স’ নামে জুতার ব্র্যান্ড এবং ‘ডি সোয়া’ নামে অ্যালকোহলমুক্ত পানীয়ের ব্যবসা। এসব উদ্যোগ সংগীতের বাইরেও তাঁর বাণিজ্যিক পরিচিতি বিস্তৃত করেছে।
বিনোদন ও আর্থিক বিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইটের হিসাব অনুযায়ী, ক্যাটি পেরির আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি ডলার। তবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত সম্পদের হিসাব নয়; বিভিন্ন আয়, বিনিয়োগ ও সম্পত্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে করা অনুমান।
সম্পত্তি ও বিনিয়োগেও আগ্রহ
ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ও বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনাবেচার সঙ্গেও যুক্ত ক্যাটি পেরি। বেভারলি হিলস, মন্টেসিটো ও ওয়েস্ট হলিউডে তাঁর সম্পত্তি কেনাবেচার তথ্য বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এসব বিনিয়োগ তাঁর সম্পদের বৈচিত্র্য তুলে ধরে।
তবে তাঁর সম্পত্তি কেনাবেচার কিছু বিষয় আইনি বিরোধেরও জন্ম দিয়েছে। মন্টেসিটোর একটি বাড়ি কেনার চুক্তি নিয়ে ব্যবসায়ী কার্ল ওয়েস্টকটের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি বিরোধ হয়। পরবর্তী সময়ে আদালতে চুক্তি বহাল থাকে এবং সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।
গানের মঞ্চ থেকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে ক্যাটি পেরি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। ৪২ বছরে পা রেখে তাঁর ক্যারিয়ার তাই শুধু জনপ্রিয় গান বা তারকাখ্যাতির গল্প নয়; বরং সংগীতের সাফল্যকে কীভাবে বহুমুখী পেশা ও ব্যবসায়িক উদ্যোগে বিস্তৃত করা যায়, তারও একটি উদাহরণ।
ভোরের আকাশ/জেআ