সিংগাইরে ৪ কোটি টাকা নিয়ে উধাও এজেন্ট ম্যানেজার

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা বাজারে ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখার ম্যানেজার শাহীনুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
গত ১১ অক্টোবর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় দেড় থেকে দুইশ গ্রাহক তাদের সঞ্চয় ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, বায়রা বাজারের ওই এজেন্ট শাখার ম্যানেজার শাহীনুর রহমান তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে আমানত সংগ্রহ করেন। কেউ কেউ বেশি মুনাফার আশায় তার কাছে টাকা জমা রাখেন। টাকা জমা দেওয়ার বিপরীতে অনেক গ্রাহককে ভাউচার ও চেক দেওয়া হয়। তবে এসব কাগজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
গ্রাহকদের দাবি, গত ১১ অক্টোবর চার কোটি টাকার বেশি নিয়ে উধাও হয়ে যান শাহীনুর রহমান। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না তারা। নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পেতে প্রতিদিন ব্যাংকে ধরনা দিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এখনো টাকা ফেরতের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো আশ্বাস পাননি বলে অভিযোগ তাঁদের।
ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের মধ্যে অনেকেই জীবনের শেষ সম্বল হিসেবে জমানো টাকা ওই শাখায় রেখেছিলেন। কেউ সংসারের প্রয়োজন, কেউ ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমানত জমা করেছিলেন। এখন সেই টাকা ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। অভিযুক্ত ম্যানেজারকে দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা এবং তাদের আমানত ফেরতের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, অভিযুক্ত শাহীনুর রহমানের খোঁজ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ইসলামী ব্যাংকের সিংগাইর শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ রমজান আলী জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেক গ্রাহক নিয়মিত ব্যাংকিং প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এজেন্ট শাখার ম্যানেজারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে লেনদেন করেছেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং আমানতের টাকা ফেরত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
ভোরের আকাশ/ইউএম