রাষ্ট্রপতির তালিকায় প্রথম সারিতে ওসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জে দুই মন্ত্রী পাওয়ার সম্ভাবনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সেই লক্ষ্যে একটি খসড়া মন্ত্রিসভা তালিকা প্রস্তুত হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়েও দলীয় অঙ্গনে আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি টেকনোক্রেট কোটায় কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলো থেকে বিজয়ী হওয়া অন্তত দুইজন সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। মন্ত্রিসভা গঠনকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ জেলার কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. এম ওসমান ফারুক, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এবং মো. শরীফুল আলম। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ড. এম ওসমান ফারুককে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হতে পারে। একই সঙ্গে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে
বিএনপির আলোচিত নেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অথবা কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল আলমকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও দলীয় অঙ্গনে আলোচনা চলছে। নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে হাড্ডাহ-াভিড লড়াইয়ের মাধ্যমে বিজয়ী হন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসন থেকে ৭৪ হাজার ৬৪৩ ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেন। জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দীর চেয়ে ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৫৮ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন। দলের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি বিতর্কিত কাউকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করতে চান না। প্রত্যেক সম্ভাব্য মন্ত্রীর অতীত ভূমিকা, রাজনৈতিক সততা, গণআন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে পরিচিত মুখের বাইরে নতুন ও তুলনামূলক অপ্রচলিত কাউকেও মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিচ্ছেন না তিনি।
ভোরের আকাশ/আ.র