শিরোনাম
চার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগ

ভুল খাবারে বাড়তে পারে অ্যাজমার ঝুঁকি

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২ জুলাই ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অ্যাজমা বা হাঁপানি ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ, যার কারণে শ্বাসনালী ফুলে যায় এবং সংকুচিত হয়ে শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি হয়। সাধারণত ধুলোবালি, ধোঁয়া, ঠান্ডা আবহাওয়া বা অ্যালার্জির কারণে অ্যাজমার প্রকোপ বাড়ে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের প্রতিদিনের কিছু চেনা খাবারও কিন্তু নিঃশব্দে হাঁপানির টান বা ফুসফুসের প্রদাহকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

কোনো খাবার সরাসরি অ্যাজমা তৈরি না করলেও, কিছু নির্দিষ্ট উপাদান শ্বাসনালীতে অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন তৈরি করে শ্বাসকষ্টের গতি তীব্র করতে পারে। অ্যাজমা রোগীদের যেসব খাবার এড়িয়ে চলা বা সাবধানে খাওয়া উচিত, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ ও ‘সালফাইট’ যুক্ত খাবার
অ্যাজমা রোগীদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর উপাদানের একটি হলো ‘সালফাইট’। এটি এক ধরণের প্রিজারভেটিভ যা খাবার অনেকদিন ভালো রাখতে ব্যবহার করা হয়।

  • ঝুঁকিপূর্ণ খাবার: বোতলজাত বা ক্যানজাত ফ্রুট জুস, শুকনো ফল (যেমন কিশমিশ, খুবানি), আচার, লেবুর রস (বোতলজাত) এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রচুর সালফাইট থাকে। সালফাইট শ্বাসনালীতে তীব্র সংকোচন তৈরি করে তাৎক্ষণিক হাঁপানির টান বাড়াতে পারে।

২. ফাস্টফুড এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার
বার্জার, পিৎজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কেবল ওজনেই বাড়ায় না, ফুসফুসেরও ক্ষতি করে।

  • কারণ: উচ্চ চর্বিযুক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরে ‘ইনফ্লেমেশন’ বা প্রদাহ তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ফাস্টফুড খান, তাদের অ্যাজমার ওষুধের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং ফুসফুসের বাতাস চলাচলের পথ সংকুচিত হয়।

৩. হিমায়িত বা প্যাকেটজাত সামুদ্রিক মাছ-মাংস
ফ্রিজে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত বা প্যাকেটজাত হিমায়িত খাবার, সসেজ বা প্রক্রিয়াজাত মাংসে স্বাদ ও রঙ ধরে রাখার জন্য নাইট্রোসামিন এবং সোডিয়ামের মতো ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। এগুলো খাওয়ার পর অনেকেরই তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং ত্বকে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।

৪. স্যালিসাইলেট  যুক্ত কিছু প্রাকৃতিক খাবার
কিছু কিছু প্রাকৃতিক খাবারে ‘স্যালিসাইলেট’ নামক উপাদান থাকে, যা কিছু অ্যাজমা রোগীর (বিশেষ করে যাদের অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধে অ্যালার্জি আছে) জন্য মারাত্মক ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে।

  • খাবার: কফি, চা, কিছু নির্দিষ্ট মসলা এবং অতিরিক্ত টক জাতীয় ফলে এটি থাকতে পারে। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে সমান প্রভাব ফেলে না।

৫. গ্যাস উৎপাদনকারী খাবার
যেসব খাবার পেটে অতিরিক্ত গ্যাস বা অ্যাসিডিটি তৈরি করে, সেগুলো পরোক্ষভাবে অ্যাজমা বাড়ায়।

  • খাবার: বাঁধাকপি, শিম বা বিন্স, অতিরিক্ত রসুন, কার্বোনেটেড ড্রিঙ্কস (কোমল পানীয়) এবং ডাল।
  • কারণ: পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমলে তা ডায়াফ্রামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে ফুসফুস পর্যাপ্ত প্রসারিত হতে পারে না এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এছাড়া গ্যাস্ট্রিকের রিফ্লাক্স বা টক ঢেকুর ফুসফুসের শ্বাসনালীকে উত্তেজিত করে হাঁপানির টান বাড়িয়ে দেয়।

৬. সাধারণ অ্যালার্জেন যুক্ত খাবার (ব্যক্তিভেদে ভিন্ন)
কিছু খাবার রয়েছে যা প্রাকৃতিকভাবেই মানবদেহে অ্যালার্জির সৃষ্টি করে। যদি আপনার কোনো নির্দিষ্ট খাবারে অ্যালার্জি থাকে, তবে তা খাওয়ার সাথে সাথে অ্যাজমার আক্রমণ তীব্র হতে পারে:

আরও পড়ুন

খাগড়াছড়িতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

  • গরুর দুধ ও ডিম: বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে দুধ ও ডিম অনেক সময় অ্যাজমা ট্রিগার করে।
  • চিনাবাদাম ও ট্রি-নাট: বাদামে থাকা প্রোটিন অনেকের শ্বাসনালীতে মারাত্মক অ্যালার্জিক শক  তৈরি করতে পারে।
  • চিংড়ি ও ইলিশ মাছ: এই খাবারগুলো অ্যালার্জির জন্য সুপরিচিত, যা অ্যাজমা রোগীদের চুলকানির পাশাপাশি শ্বাসকষ্টের বেগ বাড়িয়ে দেয়।

অ্যাজমা রোগীদের জন্য জরুরি কিছু পরামর্শ:

  • ফুড ডায়েরি রাখুন: কোন খাবারটি খাওয়ার পর আপনার শ্বাসকষ্ট বা কাশি বাড়ছে, তা একটি ডায়েরিতে নোট করে রাখুন এবং সেই খাবারটি খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন। কারণ সবার ক্ষেত্রে সব খাবার ট্রিগার করে না।
  • তাজা খাবার খান: প্রিজারভেটিভযুক্ত বা বাসি খাবার এড়িয়ে সবসময় বাড়িতে তৈরি তাজা শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস করুন। ভিটামিন সি ও ই সমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

সঠিক ওষুধ এবং ইনহেলার ব্যবহারের পাশাপাশি সচেতন খাদ্যতালিকা মেইনটেইন করলে অ্যাজমা বা হাঁপানিকে খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই খাবার নির্বাচনে সচেতন হোন এবং সুস্থ থাকুন।

ভোরের আকাশ/জেআ

অ্যাজমাশ্বাসকষ্ট

শেয়ার করুন: