ওজন কমাতে ডায়েটে দারুচিনি পানি, কতটা উপকারী?

ওজন কমাতে খাদ্যাভ্যাসে নানা ধরনের স্বাস্থ্যকর পানীয় যোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যে দারুচিনি মেশানো পানি বেশ জনপ্রিয়। অনেকে মনে করেন, নিয়মিত দারুচিনি পানি পান করলে বিপাকক্রিয়া বাড়ে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে ও ওজন কমাতে সহায়তা করে।
তবে দারুচিনি পানি সরাসরি শরীরের চর্বি কমিয়ে দেয়—এমন শক্ত প্রমাণ নেই। গবেষণায় দারুচিনির কিছু সম্ভাব্য বিপাকীয় উপকারের কথা উঠে এলেও ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা এখনও স্পষ্ট নয়।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা
দারুচিনি নিয়ে বেশ কিছু গবেষণায় রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব দেখা হয়েছে। কয়েকটি মেটা-অ্যানালাইসিসে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে দারুচিনি গ্রহণের সঙ্গে ফাস্টিং ব্লাড সুগার কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে গবেষণাগুলোর ফল একরকম নয় এবং দারুচিনিকে ডায়াবেটিসের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ধরা যায় না।
হজমে উপকারের দাবি কতটা সত্য?
দারুচিনি খাবারে মসলা হিসেবে ব্যবহৃত একটি পরিচিত উপাদান। তবে দারুচিনি পানি গ্যাস বা পেট ফাঁপা কমায় কিংবা শরীরকে ‘ডিটক্স’ করে—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
কীভাবে খাওয়া যায়?
এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অল্প পরিমাণ দারুচিনি মিশিয়ে পান করা যায়। তবে অতিরিক্ত দারুচিনি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে দারুচিনি গ্রহণের আগে সতর্ক থাকা উচিত।
ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবনকারী ব্যক্তিদের দারুচিনি খেয়ে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কোনো পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। দারুচিনি খাবারের স্বাভাবিক পরিমাণে সাধারণত নিরাপদ হলেও বেশি পরিমাণে গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
সবশেষে, ওজন কমানোর জন্য শুধু দারুচিনি পানি নয়—সুষম খাবার, পরিমিত ক্যালরি গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুমই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ভোরের আকাশ/জেআ