বিক্ষোভে উত্তাল চুয়েট, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চরম রূপ নিয়েছে এবং তারা চলমান অচলাবস্থা নিরসনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। পরে মিছিলটি স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে আবার শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা ‘তোমার ভিসি, আমার ভিসি-সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’, ‘এক দফা, এক দাবি-সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘চুয়েটের অচলাবস্থা কাটাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। এছাড়া ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’, ‘চুয়েট রিভোল্টস ফর সায়েম স্যার’ এবং ‘পিএম, কনসিডার আওয়ার আপিল’ লেখা প্ল্যাকার্ডও ছিল।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, শুক্রবার একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম দাবি করেছেন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের চারটি পরীক্ষা আন্দোলনের কারণে আটকে রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাম্পাসের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এ বক্তব্যের সামঞ্জস্য নেই।
তাদের ভাষ্য, ওই শিক্ষাবর্ষের প্রায় সব বিভাগের পরীক্ষা এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। শুধু একটি বিভাগের পরীক্ষা এখনো শুরু হয়নি। তাই উপাচার্যের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক’ দাবি করে তারা প্রতিবাদ জানান।
ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বলেন, আমরা আমাদের সায়েম স্যারকে আবার উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। প্রশাসনের নীরবতায় আমরা ক্ষুব্ধ। আন্দোলনের কারণে আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা সব বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনি যেন দ্রুত আমাদের সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেন। আমরা ক্লাসে ফিরতে চাই।
শিক্ষার্থীরা চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসন, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তারা লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
ভোরের আকাশ/আ.র