অবৈধ দখলে হারাচ্ছে নাজিরপুরের কালীবাড়ি পুকুরের অস্তিত্ব

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের শতবর্ষী কালীবাড়ি পুকুরটি আজ অবৈধ দখলদারদের করাল গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এই পুকুরটি শুধু একটি জলাশয় নয় এটি নাজিরপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অমূল্য নিদর্শন।
জানা যায়, জমিদার আমলে খনন করা এই পুকুরটি শত বছর ধরে এলাকার মানুষের সুপেয় পানির অন্যতম উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রাচীন কালীবাড়ি মন্দির ও কালীবাড়ি জামে মসজিদ উভয় ধর্মীয় স্থাপনার ঐতিহ্যের সঙ্গে এই পুকুরটির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের উপজেলা পর্যায়ের কর্তা ব্যক্তিরা প্রভাব খাটিয়ে যৌথভাবে এই পুকুরটি দখল করেন। পুকুরের তিনটি পাড়সহ বৃহৎ অংশ দখল করে সেখানে পাইল পুঁতে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বাণিজ্যিক মার্কেট, যা বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
দখলদারদের বর্জ্য ও নোংরা পানি পুকুরে ফেলা হচ্ছে নিয়মিতভাবে। ফলে এক সময়ের নির্মল জলাশয়টি এখন পরিণত হয়েছে দুর্গন্ধময় ময়লার ভাগাড়ে। এতে এলাকায় বেড়ে গেছে মশা-মাছির উপদ্রব এবং সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি।
স্থানীয় প্রবীন বাসিন্দা আলতাফ হোসেন মৃধা বলেন, এই পুকুরের পানি দিয়েই আমরা অজু করতাম, রান্না করতাম। এখন এমন অবস্থা যে পাশে দাঁড়ানোও যায় না। যারা ক্ষমতার জোরে দখল করেছে, তাদের দ্রুত বিচার চাই।
স্থানীয়রা দ্রুত এই অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে শতবর্ষী কালীবাড়ি পুকুরটিকে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই হারিয়ে যাবে নাজিরপুরের এই ঐতিহাসিক জলাশয় ও তার ঐতিহ্য।
নাজিরপুর উপজেলা ছাএদলের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ খান (লিলন) বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দাপটে এবং প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে এ পুকুরটি দখল হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের দাবি এবং জলাশয়ের স্বার্থে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি তৎকালীন আমলে।
পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক নুরুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার উৎপল কুমার দেউরি বলেন, আমি এই দখলের বিরোধিতা করেছি বহুবার, কিন্তু কোনো ফল পাইনি।
ভোরের আকাশ/জাআ