ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় এক কক্ষে চার শ্রেণির পাঠদান, লেখাপড়া ব্যাহত

একটি কক্ষ। দুই শিফটে সেখানে গাদাগাদি করে বসে পাঠ নিতে হচ্ছে চারটি শ্রেণির শিক্ষার্থীকে। শিক্ষক মিলনায়তন ও আইসিটি ল্যাব হিসেবে ব্যবহার করা পাশের কক্ষেও পাঠ নিতে হয় অপর দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের। ফলে শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উত্তর পশ্চিম চরজাঙ্গালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে এই সংকটের মধ্যেই পাঠ নিতে হচ্ছে। কারণ, বিদ্যালয়ের দুইটি ভবনের মধ্যে একটি দ্বিতল ভবন প্রায় এক বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এ বিদ্যালয়ে একটি দ্বিতল ও একটি একতলা ভবন রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল অফিস ও শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে দ্বিতল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবনেই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। অনেক কষ্ট করে দুইটি কক্ষে ছয়টি শ্রেণির পাঠদান এবং শিক্ষক মিলনায়তন ও আইসিটি ল্যাব পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম শিফটে একটি কক্ষে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির এবং শিক্ষক মিলনায়তন ও আইসিটি ল্যাব হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির পাঠদান চালানো হয়। অপরদিকে, দ্বিতীয় শিফটে একটি কক্ষে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির এবং শিক্ষক মিলনায়তন ও আইসিটি ল্যাব হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষে পাঠদান করানো হয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের।
এতে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে ক্লাস করাসহ দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীর হৈ-চৈ শব্দে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, ব্যবহৃত এই একতলা ভবনটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর গ্রেড বিমে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সিলিংয়ের প্লাস্টার খসে পড়ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসমাহান বারিকা, আফিফা আক্তার, লামিয়া আক্তার এবং চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সালমা আক্তার ও সাইমুন আক্তার জানান, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় একটি কক্ষের ভেতরেই তাদের ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক পরিবেশ না থাকায় তারা ভালোভাবে পাঠ নিতে পারছে না। তছাড়া এ ভবনটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় তারা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জহিরুল ইসলাম জানান, দ্বিতল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। যে কারণে, দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকদের দুর্ভোগের শেষ নেই। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এ সমস্যা সমাধানে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাশেদুল হায়দার, অভিভাক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও মোজাম্মেলন হোসেনসহ অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমানে ব্যবহৃত একতলা ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের দীর্ঘসূত্রতা দূর করে বিদ্যালয়ের এ শ্রেণিকক্ষ সংকটের দ্রুত স্থায়ী সমাধান করা হোক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহেনা জামান বলেন, দ্বিতল ভবনটি প্রায় এক বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় দুইটি কক্ষেই ছয়টি শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে। মূলত, দুই কক্ষের এ একতলা ভবনটি মূলত প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি, আইসিটি কার্যক্রম ও শিক্ষক মিলনায়তনের জন্য ব্যবহারের কথা ছিল।
তিনি বলেন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এভাবে ক্লাস চালিয়ে নেওয়ায় স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রান্তিক সাহা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি) মাধ্যমে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু পিইডিপি-৪-এর কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে। পিইডিপি-৫-এর কার্যক্রম শুরু হলে নতুন ভবন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমান সংকট কীভাবে সাময়িকভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, বিদ্যালয়ের মূল ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। আপাতত সেটি সংস্কার করে ব্যবহারযোগ্য রাখার চেষ্টা করা হবে। নতুন প্রকল্প না আসা পর্যন্ত সাময়িকভাবে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/ এনউব