গাইবান্ধায় অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার,গ্রেপ্তার ৪

গাইবান্ধা সদর থেকে অপহৃত নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে রংপুর মহানগরী থেকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩। এ ঘটনায় অপহরণ মামলার প্রধান আসামি টিপু মিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এসআরবি-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, সদর উপজেলার বারবলদিয়া (নতুন বন্দর) এলাকার টিপু মিয়া (২৫), আলী আকবর (৫০), বিপুল মিয়া (২৭) ও বেলাল মিয়া (৩০)। তাঁদের মধ্যে টিপু মিয়া মামলার প্রধান আসামি।
এসআরবি-১৩-এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় টিপু মিয়া তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। বিষয়টি কিশোরী তার পরিবারকে জানালে তার বাবা টিপু মিয়ার পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টির সমাধান না করে টিপুর পরিবার তাকে আরও উৎসাহিত করে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে গাইবান্ধার স্থানীয় রুপার বাজার এলাকা থেকে টিপু মিয়া জোর করে ওই কিশোরীকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলায় টিপু মিয়াসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
মামলার পর ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এসআরবি-১৩। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৭ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৩টার দিকে গাইবান্ধা ক্যাম্পের সিপিসি-৩-এর একটি দল বারবলদিয়া (নতুন বন্দর) এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আলী আকবর, বিপুল মিয়া ও বেলাল মিয়াকে তাঁদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রংপুর মহানগরীর কাতলা কাছনা (বোতলা পাড়া) এলাকায় সুমন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার এবং মামলার প্রধান আসামি টিপু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-১৩ জানিয়েছে, উদ্ধার করা কিশোরী ও গ্রেপ্তার আসামিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপহরণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
ভোরের আকাশ/ এনউব