স্ত্রী ও অনাগত সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হলেও স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বরিশালের ২৬ বছর বয়সী এক নারী। তার অভিযোগ, বিয়ের পর ব্যবসার কথা বলে তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়া হলেও বিয়ে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নানা টালবাহানা শুরু করেন স্বামী।
বর্তমানে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে বলে দাবি করেছেন। স্বামীর স্বীকৃতি, অনাগত সন্তানের অধিকার ও নিজের নিরাপত্তার দাবিতে গত দুই মাস ধরে বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।
অভিযোগকারী আর্নি আক্তার অনামিকা (২৬) বরিশাল নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা ভাসানি সড়কের বাসিন্দা। তার বাবার নাম রফিক মির্জা। অভিযুক্ত রাসেল মিয়া (২৬) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোলাখানা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা মিয়ার ছেলে।
অনামিকার অভিযোগ, ঢাকায় রাসেল মিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রায় দুই মাস কথাবার্তার পর রাসেল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে একজন হুজুরের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর রাসেল ব্যবসার কাজে প্রায় আট মাস মিসরে অবস্থান করেন। প্রায় ১০ মাস পর দেশে ফিরে কিছুদিন ঢাকায় তার সঙ্গে থাকার পর রাসেল গ্রামের বাড়িতে চলে যান।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে রাসেল ফোন করে তাকে কুড়িগ্রামে নিয়ে আসেন। তবে নিজের বাড়িতে না তুলে ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি এলাকায় তার মামার বাড়িতে রাখেন। সেখানে প্রায় ১০ দিন থাকার পর তাকে রাসেলের নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় চার মাস থাকার পর হঠাৎ ব্যবসায় লোকসান হয়েছে জানিয়ে রাসেল তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন।
অনামিকার দাবি, বিয়ে নিবন্ধন করে দেওয়ার আশ্বাসে তিনি বাবার জমি ও নিজের গহনা বিক্রি করে রাসেলকে ওই পাঁচ লাখ টাকা দেন। টাকা দেওয়ার পর বিয়ে নিবন্ধনের জন্য চাপ দিলে রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যরা নানা টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি স্বামীর স্বীকৃতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।
অনামিকা আরও দাবি করেন, বর্তমানে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে—এ কথা স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের জানালেও তারা বিষয়টি মেনে নিচ্ছেন না। বরং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়ে প্রতিকার না পেয়ে গত ২৫ আগস্ট আদালতে স্বামী রাসেল মিয়া, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপরও স্বামীর সন্ধান ও স্বীকৃতির আশায় গত তিন দিন ধরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে অবস্থান করছেন তিনি।
অনামিকা বলেন, ‘আমার সরল-সহজ জীবনটা মুহূর্তের মধ্যে তছনছ হয়ে গেছে। গত দুই মাস ধরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমি আমার স্বামীর কাছে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি চাই এবং নিজের ও অনাগত সন্তানদের নিরাপত্তা চাই।’
তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামে তার কোনো নিকট আত্মীয়স্বজন নেই। ফলে তিনি সেখানে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। থাকার জায়গা ও চিকিৎসাসেবার সংকটে সরকারি হাসপাতালেই দিন কাটাতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে রাসেল মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর চন্দ্র রায় বলেন, মামলায় মোট পাঁচজন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রাসেল মিয়াসহ বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদনে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। তার গর্ভে যমজ সন্তান থাকার বিষয়টিও পরীক্ষায় উল্লেখ রয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র