সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ৬ মামলা

করোনাভাইরাস মহামারির সময় চিকিৎসা ও সুরক্ষাসামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৬টি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুদকের পক্ষ থেকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত মামলার অভিযোগে বলা হয়, দুদকের অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি)’ প্রকল্পের ছয়টি প্যাকেজে এসব অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। পৃথক ছয়টি অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলা করার সুপারিশের পর কমিশন মামলাগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- কোভিড ১৯ প্রকল্পের পিডি ডা. মো. ইকবাল কবির, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝোরা, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. মো. শরিফুল হাসান, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আনোয়ার সাদাত ও মেডিকেল অফিসার ডা. অনির্বান সরকার।
এছাড়া জাদিদ অটোমোবাইলসের প্রোপাইটার কাজী শামীমুজ্জামান, ই-মিউজিকের প্রোপাইটর হোসনী ইব্রাহিম, ব্রেন স্টেশন ২৩ লিমিটেড প্রোপাইটার রইসুল কবীর, ইনশা ট্রেড করপোরেশন প্রোপাইটর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলন, সিম করপোরেশনের ম্যানেজিং পার্টনার মোস্তফা মনোয়ার, এসআরএস ডিজাইন অ্যান্ড ফ্যাশন লিমিটেড প্রোপাইটর সাইফুর রহমানকে অনুমোদিত মামলার আসামি করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক অসদাচরণ, বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। মামলাগুলোতে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১২০বি ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রথম অনুমোদিত মামলায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ইআরপিপি প্রকল্পের প্যাকেজ জিডি-০১-এর আওতায় কে এন ৯৫, এ এন ৯৫ মাস্ক এবং হ্যান্ড গ্লাভস কেনার ক্ষেত্রে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ মামলায় জাহিদ মালেক ছাড়াও অধ্যাপক ডা. মো. ইকবাল কবির, ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝোরা, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, কাজী শামীমুজ্জামান, ডা. মো. শরিফুল হাসান, ডা. মোহা. আনোয়ার সাদাত ও ডা. অনির্বান সরকারকে আসামি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অনুমোদিত মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে প্যাকেজ জিডি-১৩-এর আওতায় পাঁচ ও তিন ফাংশনের ইলেকট্রিক হাসপাতাল বেড কেনায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় ইকবাল কবির, সানিয়া তাহমিনা ঝোরা, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, শরিফুল হাসান, আনোয়ার সাদাত ও অনির্বান সরকার আসামি।
তৃতীয় অনুমোদিত মামলায় এ জাহিদ মালেকসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। প্যাকেজ জিডি-৫-এর আওতায় করোনা মহামারিতে ব্যবহারের জন্য কে এন ৯৫ মাস্ক কেনায় ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এ মামলায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাড়াও ইকবাল কবির, সানিয়া তাহমিনা ঝোরা, নাসিমা সুলতানা, সাইফুর রহমান, শরিফুল হাসান, আনোয়ার সাদাত ও অনির্বান সরকারকে আসামি করা হয়েছে।
চতুর্থ অনুমোদিত মামলায় এ তিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও একজন ঠিকাদারকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্যাকেজ এসডি-০২-এর আওতায় জনসচেতনতা, শিক্ষা, ঝুঁকি যোগাযোগ ও ভুল তথ্য প্রতিরোধে টিভিসি প্রচারের জন্য সেবা কেনার ক্ষেত্রে টিভিসি প্রচার না করেই ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭০ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ ও গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ মামলায় ইকবাল কবির, সানিয়া তাহমিনা ঝোরা, নাসিমা সুলতানা ও ই-মিউজিকের স্বত্বাধিকারী মো. হোসনী ইয়ামিনকে আসামি করা হয়েছে।
পঞ্চম অনুমোদিত মামলায় সাতজনের বিরুদ্ধে প্যাকেজ জিডি-০৮-এর আওতায় হ্যান্ডহেল্ড থার্মোমিটার, কেএন ৯৫ মাস্কসহ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সামগ্রী কেনায় ২ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৫ টাকা ৫০ পয়সা অতিরিক্ত পরিশোধ ও গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ মামলায় ইকবাল কবির, সানিয়া তাহমিনা ঝোরা, নাসিমা সুলতানা, সিম কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা অংশীদার মো. মোস্তফা মনোয়ার, শরিফুল হাসান, আনোয়ার সাদাত ও অনির্বান সরকারকে আসামি করা হয়েছে।
ষষ্ঠ অনুমোদিত মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্যাকেজ এসডি-০১-এর আওতায় ‘করোনাবিড মোবাইল অ্যাপ’ ও ‘ন্যাশনাল করোনা কেয়ার সিস্টেম সেন্ট্রাল ওয়েব-অ্যাপ্লিকেশন’ সেবা কেনার ক্ষেত্রে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ ও গ্রহণ করে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
এ মামলায় ইকবাল কবির, সানিয়া তাহমিনা ঝোরা, নাসিমা সুলতানা, ব্রেইন স্টেশন ২৩ লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী রইসুল কবির এবং সিম কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা অংশীদার মো. মোস্তফা মনোয়ারকে আসামি করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরি পণ্য ও সেবা কেনার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে ইআরপিপি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ছয়টি প্যাকেজে বিভিন্ন করোনা সামগ্রী ও সেবা কেনা হয়।
ভোরের আকাশ/আ.র