সিরাজগঞ্জে যুবদল-ছাত্রদল-বিএনপির দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৩০

সিরাজগঞ্জ শহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের ঠিক আগে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার দুই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হাজী আব্দুস সাত্তারের অনুসারীরা সংঘর্ষে জড়ান। তবে কী কারণে সংঘর্ষের সূত্রপাত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ইলিয়ট ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিএনপির একটি গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু জানান, তিনি জরুরি কাজে বগুড়ায় অবস্থান করছেন। মুঠোফোনে তিনি জানতে পেরেছেন, পুরাতন পোস্ট অফিস রোডে তার বাড়িতে হাজী আব্দুস সাত্তারের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান বাচ্চু।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হাজী আব্দুস সাত্তার বলেন, সংঘর্ষের বিষয়টি তার জানা নেই। তিনিও ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, কী কারণে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, জুমার নামাজের ঠিক আগে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শহরের একাধিক স্থানে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র