চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি বকুল গাছ কাটার ঘটনায় তোরণ অপসারণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শান্তিমোড়ে তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে সড়ক বিভাজকের একটি সরকারি বকুল গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে তোরণটি অপসারণ করে নিয়ে যান আয়োজকরা।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে তোরণ নির্মাণের জন্য গাছটি কেটে ফেলা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে শনিবার খুব ভোরে তোরণটি সরিয়ে নেন তোরণ নির্মাণকারীরাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামীর এমপি আমির হামজার আগমন উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মীয় মাহফিলকে সামনে রেখে তোরণের সৌন্দর্য বাড়াতেই সরকারি গাছটি কাটা হয়েছিল। তবে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘ইসলামিক সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি হাফেজ আসলাম কবির দাবি করেন, বিষয়টি ডেকোরেটর কর্মীদের অবহেলার কারণে ঘটেছে। তাঁর ভাষ্য, গাছটি সামান্য ছাঁটাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবু জার গিফারী এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান। এ ঘটনায় পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
সংবাদ প্রকাশ ও স্থানীয়দের দাবির পর তোরণটি অপসারণ করা হয়। এ বিষয়ে আয়োজক হাফেজ আসলাম কবির বলেন, রাষ্ট্রীয়, সামাজিক বা পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কোনো কাজ আলেম ও ইমাম সমাজ সমর্থন করে না। অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে তোরণটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি তোরণটি অপসারণের সঠিক সময় নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি।
পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
ভোরের আকাশ/জেআ