কক্সবাজারে প্রবাসী হত্যা মামলায় নাহিদ মোর্শেদ চাঁদ গ্রেপ্তার

কক্সবাজার পৌর এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় দুবাইপ্রবাসী ওমর ফারুককে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ও কথিত মূল পরিকল্পনাকারী নাহিদ মোর্শেদ চাঁদকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫।
র্যাব-১৫-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২১ আগস্ট বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার সদর থানার খুরুলিয়া ইউনিয়নের মকবুল সওদাগরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাহিদ মোর্শেদ চাঁদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত ওমর ফারুক কক্সবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পেশকারপাড়ার বাসিন্দা ও দুবাইপ্রবাসী ছিলেন। র্যাবের দাবি, একটি স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
র্যাব জানায়, এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাহিদ মোর্শেদ চাঁদ, তাঁর সহযোগী ওয়াহিদ মোর্শেদ ছাহিদ ও সৈয়দ আকবরসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওমর ফারুকের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁকে ভবনের ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। পরে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
পরে স্বজনরা আহত ওমর ফারুককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
র্যাবের ভাষ্য, মামলা দায়েরের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। তাদের গ্রেপ্তারে র্যাব-১৫ ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুরুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি নাহিদ মোর্শেদ চাঁদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার নথি পর্যালোচনায় জানা গেছে, নাহিদ মোর্শেদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় মারামারি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আরও একটি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার নাহিদ মোর্শেদ চাঁদকে উদ্ধার করা আলামতসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১৫।
ভোরের আকাশ/জেআ