তথ্য অধিকার আইনের তোয়াক্কা নেই কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে!
আবেদন করার পরও মিলছে না তথ্য, ক্ষোভ আবেদনকারীর

কুষ্টিয়াতথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তথ্য পেতে চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ফরমে আবেদন করার পরও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী। এতে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, গত ২১ মে ২০২৬ তারিখে দৈনিক কুষ্টিয়া দর্পণ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হাসনাত আহম্মেদ তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সিভিল সার্জন বরাবর ফরম ‘ক’-এ একটি আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে কুষ্টিয়া জেলার নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তালিকা, রেজিস্ট্রেশনবিহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা, কমিউনিটি ক্লিনিকের হালনাগাদ তথ্য এবং ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিচালিত অভিযানের বিবরণ ও গৃহীত ব্যবস্থার অনুলিপি চাওয়া হয়।কিন্তু আবেদন জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি আবেদন নিষ্পত্তি বিষয়ে আবেদনকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবেও কিছু জানানো হয়নি।তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ৯ অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনকারীকে তথ্য প্রদান বা আইনসম্মত কারণে তথ্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানাতে বাধ্য। আবেদনকারীর অভিযোগ, সেই আইনি বাধ্যবাধকতা পালন করা হয়নি। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হাসনাত আহম্মেদ বলেন, জনস্বার্থে এবং নাগরিকের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তথ্য না পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। আইন অনুযায়ী তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত হওয়া উচিত। স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজনের দাবি, জেলার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হলে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র সামনে আসতে পারে। তবে এই দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পেলে আবেদনকারী আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারেন। এরপরও প্রতিকার না মিললে তথ্য কমিশনের কাছে অভিযোগ বা আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমার কাছে এসে পৌঁছায়নি অথচ গত ২১-০৫_২০২৬ ইং তারিখে সিভিল সার্জনের অফিস কর্তৃপক্ষ রিসিভ করে নেন প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সিভিল সার্জন এর হাতে পৌঁছায়নি এমন বিস্ময়কর বিষয়টি হতভাগ করেছে সকলকে।
ভোরের আকাশ/এনউব