বৃষ্টিতে গলে পড়ছে ট্রাকভর্তি চিনি, কুষ্টিয়ায় জব্দ; আটক ৪

ট্রাকভর্তি চিনি। বৃষ্টির পানিতে ভিজে সেই চিনি গলে গলে পড়ছিল ট্রাকের নিচে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকায় শুরু হয় হইচই। নারী-পুরুষ বালতি, পাতিলসহ বিভিন্ন পাত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ভেজা চিনি সংগ্রহ করতে থাকেন। পরে স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় চিনির মালিকসহ চারজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, রাজধানী এন্টারপ্রাইজের সামনে একটি ট্রাকে বিপুল পরিমাণ চিনি আনা হয়। সেখানে চিনি নামানোর প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে ভিজে ট্রাক থেকে চিনি গলে নিচে পড়তে শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের নারী-পুরুষ সেখানে ভিড় করেন এবং বিভিন্ন পাত্রে করে ভেজা চিনি সংগ্রহ করতে থাকেন।
একপর্যায়ে স্থানীয়রা ট্রাকটি আটকে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বলেন, ‘চিনি গলে গলে ট্রাকের নিচে পড়ছিল। সকালে এলাকাবাসী ট্রাকটি আটকে খবর দিলে সেটি থানায় আনা হয়।’
ওসি আরও বলেন, ‘অভিযোগ রয়েছে, আরও দুই ট্রাক চিনি খাজানগরে প্রবেশ করেছে। সেগুলো উদ্ধারে অভিযান চলছে।’
তবে এসব চিনি কোথা থেকে এসেছে, কেন খাজানগরে আনা হয়েছে এবং চিনিগুলো বৈধ না অবৈধ—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেননি ওসি।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, পাবনার শামীম হোসেন কুষ্টিয়ার মজমপুর এলাকার ইলিয়াসের কাছে চিনি বিক্রি করেন। তবে চালান বা বৈধ কাগজপত্রের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইলিয়াস বলেন, ‘আমি চালান পাইনি। তবে চিনিগুলো একটি জায়গায় নামানো হচ্ছিল।’
অন্যদিকে রাজধানী এন্টারপ্রাইজের মালিক মুস্তাফিজুর রহমান বাবু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘চিনিগুলো আমার মিলের পাশে কামাল নামে একজনের গোডাউনে আনলোড করার পরিকল্পনা ছিল। আমি এসবের সঙ্গে নেই। বিএনপি নেতা মজনুসহ কয়েকজন ট্রাক আটকেছেন। তারা কেন আটকেছেন, তারাই ভালো বলতে পারবেন।’
ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ট্রাকগুলোতে চাল থাকার কথা থাকলেও সেখানে চিনি পাওয়া যাওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে আরও দুই ট্রাক চিনি খাজানগরে প্রবেশের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
চিনিগুলো চোরাই কি না, কোথা থেকে এসেছে এবং কার মাধ্যমে খাজানগরে আনা হয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ বলছে, তদন্ত ও অভিযান শেষে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
ভোরের আকাশ/জেআ