জীনে ধরার গুজবে দোয়ার আয়োজন
শ্রীপুরে কারখানায় আবারও অসুস্থ অর্ধশতাধিক

গাজীপুরের শ্রীপুরে কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় আজও অর্ধশতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
অসুস্থদের উদ্ধার করে স্থানীয় আলহেরা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আলহেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা মোহাম্মদ আবুল হোসাইন।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় অস্বস্থি,মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও বমি ভাবসহ বিভিন্ন লক্ষ্মণ নিয়ে আরও অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকালে কারখানাটির শতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। আল হেরা হাসপাতাল ৮০ জনকে চিকিৎসা দেয়।তাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আলহেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা মোহাম্মদ আবুল হোসাইন জানান আজ সকলেও ওই কারখানার ৬০ জন শ্রমিক
অস্বস্থি,মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও বমি ভাবসহ বিভিন্ন লক্ষ্মণ নিয়ে হাসপাতালে আসে।তাদের কে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটা পেনিক এ্যাটাক।সাধারণত ভয় থেকে এ ধরনের লক্ষ্মণ দেখা দেয়।
শ্রমিকেরা জানান, আজ সকালে সবাই নিয়মিত কাজে যোগ দেই। সাড়ে ৯টায় কারখানার পঞ্চম তলার সুইং বিভাগে কয়েকজন শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ বোধ করতে থাকে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন অসুস্থ হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় আরও কয়েক জনের মধ্যে একই ধরনের লক্ষ্মণ দেখা দেয় । পরে তাঁদের উদ্ধার করে মাওনা চৌরাস্তার আলহেরা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কারখানার জেনারেল ম্যানেজার সঞ্জীব বলেন, ‘সকাল থেকে কারখানা উৎপাদন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর শ্রমিকেরা অসুস্থ হতে থাকে। এটি জিনের আছর বলে গুজব ছড়িয়ে পরে । সে কারণে কয়েকজন ইমাম এনে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে।’
এদিকে গত দুই দিনে কারখানায় অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে ১৫০ ছাড়িয়েছে। গুরুতর ৭ জন ময়মনসিংহ মেডিকেলে
, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কারখানা সুইং অপারেটর রিমা বলেন ‘সকালে আমরা কাজে যোগ দেই। দুই আড়াই ঘণ্টা কাজ করার পর পঞ্চম তলায় জীনে ধরার খবর ছড়িয়ে পরে।এরপর অন্য ফ্লোরেও শ্রমিকরা অসুস্থ হতে থাকে। গতকাল যে ধরনের লক্ষ্মণ ছিল আজও একই ধরনের লক্ষন দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির দিনে ঠান্ডা পরিবেশে এ ধরনের পরিস্থিতি আমাদের কে ভয়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তাই আমরা জীনে ধরার আশংকা করছি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম জানান, সকালে কাজের সময় হঠাৎ বেশ কিছু শ্রমিক অসুস্থ বোধ করলে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে অসুস্থ শ্রমিকদের সার্বিক খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত অসুস্থ হওয়ার কারণ জানা যায়নি। কারণ উদ্ঘাটনের জন্য বিশেষ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।’
ভোরের আকাশ/ র.ই