ফরিদপুরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ফরিদপুরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ এসএম আব্দুল হালিম, সরকারি ইয়াছিন কলেজের অধ্যক্ষ ড. নিখিল রঞ্জন বিশ্বাস, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মতীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুস্মিতা সাহা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ ঘোষাল, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হাফিজুর রহমান, সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আশরাফ আলী, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শিরিন আক্তার, জেলা কারাগারের জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া, জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ডার চন্দন দেবনাথ এবং বিআরটিএর সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশি টহল বৃদ্ধি, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
ফরিদপুর শহরের যানজট নিরসনেও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাসস্ট্যান্ড ও বাজার এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং, অতিরিক্ত গতি এবং হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা শুধু প্রশাসন বা পুলিশের একক দায়িত্ব নয়; বরং জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
ভোরের আকাশ/সু.পা