প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পেলেন শেরপুরের গ্রামপুলিশ মজনু মিয়া

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত গ্রামপুলিশদের মহাসমাবেশে দেশের আটজন গ্রামপুলিশ সদস্যকে সম্মাননা ও অর্থ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শেরপুরের গ্রামপুলিশ সদস্য মো. মজনু মিয়া (কাজল)।
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। তার এ অর্জনে আনন্দিত শেরপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রামপুলিশদের মহাসমাবেশে সম্মাননাপ্রাপ্ত সদস্যদের হাতে সম্মাননা ও অর্থ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন শেরপুরের মজনু মিয়া।
মজনু মিয়া শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের সাতানিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মরহুম বিল্লাল হোসেন দফাদারের সন্তান। বাবার মৃত্যুর পর নিজের যোগ্যতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে গ্রামপুলিশের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সুনাম অর্জন করেছেন মজনু মিয়া।
গ্রামপুলিশের মতো তৃণমূল পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী একজন সদস্যের জাতীয় পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি অর্জন স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে আসা মজনু মিয়ার এ অর্জনকে তার কর্মনিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন অনেকে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে মজনু মিয়ার সম্মাননা গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকেই তার এ অর্জনকে শেরপুর জেলার জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
চরশেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বলেন, “আমাদের ইউনিয়নের সাতানিপাড়া গ্রামের সন্তান মজনু মিয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পেয়েছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। একজন গ্রামপুলিশ সদস্য হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তার এই অর্জন শুধু চরশেরপুর ইউনিয়নের নয়, পুরো শেরপুর জেলার জন্য গৌরবের। আমি তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। এ সম্মাননা তাকে ভবিষ্যতে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে জনসেবায় কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করি।”
স্থানীয়দের মতে, গ্রামপুলিশ সদস্যরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, প্রশাসনিক কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের দায়িত্ব ও অবদান অনেক সময় জাতীয় পর্যায়ে যথাযথভাবে আলোচনায় আসে না। এমন পরিস্থিতিতে একজন গ্রামপুলিশ সদস্যের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পাওয়া তৃণমূল পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীদের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয়।
ভোরের আকাশ/সু.পা