বিধবা ভাতার আশায় এক যুগ, মিলেনি প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা

স্বামী হারিয়েছেন প্রায় দুই যুগ আগে। নেই কোনো ছেলে সন্তান, নেই নিজের কোনো জমিজমা। আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ছোট ঘরই এখন তার একমাত্র ঠিকানা।
বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর নিয়েও অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কোনোমতে দিন কাটছে তার। অথচ দীর্ঘ এক যুগ ধরে জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও পাননি একটি বিধবা ভাতার কার্ড।
বলছিলাম গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের তরফ কামাল গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা জমিলা বেওয়ার কথা।
৬২ বছরের বেশি বয়সী জমিলা বেওয়ার জীবন যেন দারিদ্র্য আর বঞ্চনার এক দীর্ঘ অধ্যায়। প্রায় বিশ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তার কঠিন সংগ্রাম।
সংসারে উপার্জনের আর কেউ না থাকায় অন্যের বাড়িতে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের সক্ষমতা কমে গেলেও থেমে নেই তার জীবনযুদ্ধ।
আক্ষেপ নিয়ে জমিলা বেওয়া বলেন, বহুবার ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও আশ্বাস পেয়েছেন বারবার। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও সেই আশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন তিনি দেখেননি। ফলে জীবনের শেষ বয়সেও তাকে কঠোর পরিশ্রম করেই বেঁচে থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যে বয়সে একজন মানুষের বিশ্রামে থাকার কথা, সেই বয়সে জমিলা বেওয়াকে এখনও অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না তিনি। তাই দ্রুত তাকে বয়স্ক বা বিধবা ভাতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে অনলাইনে আবেদন করা হলে জমিলা বেওয়াকে ভাতার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
অন্যদিকে সাদুল্লাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আজাদুল ইসলাম বলেন, 'স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তাকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে।'
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জমিলা বেওয়ার চাওয়া খুব বেশি নয়। রাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় একটি বিধবা ভাতার কার্ডই তার একমাত্র প্রত্যাশা।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেয় কি না, নাকি প্রতিশ্রুতির অপেক্ষায় আরও দীর্ঘ হয় এই অসহায় বৃদ্ধার সংগ্রামের গল্প।
ভোরের আকাশ/ র.ই