জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান, নজরদারি জোরদার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দুর্গম এ এলাকায় অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ না দিতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর, নবীনগর, ওসমানের ঘোনাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি, এপিবিএনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় তিন শতাধিক সদস্য অংশ নেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
এ সময় স্থানীয়দের উদ্দেশে বলা হয়, এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অপরিচিত ব্যক্তির আনাগোনা কিংবা কোনো ধরনের সন্দেহজনক তৎপরতা চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের ভৌগোলিক অবস্থান ও দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে যাতে কোনো অপরাধী চক্র সংগঠিত হতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত নজরদারি ও সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল অপরাধীদের সম্ভাব্য সংঘবদ্ধ হওয়ার পথ বন্ধ করা, নাশকতার কোনো প্রস্তুতি থাকলে তা প্রতিহত করা এবং অপরাধ সংঘটনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে না দেওয়া। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকবে না। জননিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্গম এলাকাতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের তথ্য ও সহযোগিতা পেলে অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। অভিযানে পুলিশ, বিজিবি ও এসআরবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ