ফরিদগঞ্জে ভূমিসেবায় হয়রানি বন্ধে উদ্যোগী সহকারী কমিশনার

সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত এই ধারণা বদলে ভূমিসেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে কাজ করছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
বিশেষ করে অসহায়, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে সেবা নিশ্চিত করা এবং ভূমি কার্যালয়ে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দিচ্ছেন এই কর্মকর্তা।
২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন মো. আনিসুর রহমান। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এটিই তাঁর প্রথম এসিল্যান্ড হিসেবে কর্মস্থল। তবে দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকায় তাঁদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে কার্যকর সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন আনিসুর রহমান। গত ১২ অক্টোবর উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পূর্ব বদরপুর এলাকায় অবৈধ ড্রেজার অপসারণে তাঁর নির্দেশনায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে ১৮ অক্টোবর ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন ও বাজার তদারকিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডেও আগ্রহ রয়েছে তাঁর। যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে খেলাধুলা ও বিতর্কচর্চার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃউপজেলা বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন করে শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, মুক্তবুদ্ধি ও সৃজনশীলতার চর্চায় উৎসাহিত করেন।
এদিকে ভূমি কার্যালয়ে সেবা নিতে এসে কেউ যাতে দালাল বা অসাধু ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতারিত না হন, সে বিষয়েও বিশেষ নজর দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। সেবাগ্রহীতারা যেন সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। দ্রুত ও সহজে সেবা প্রদানের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিজেই তদারকি করছেন।
ইতোমধ্যে তাঁর কার্যালয় থেকে ভূমিসেবা পেয়েছেন বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী আব্দুল মান্নান এবং বিধবা নারী রহিমা বেগম। প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে তাঁদের দীর্ঘসূত্রতা কিংবা হয়রানির মুখে পড়তে হয়নি। স্বল্প সময়ে সেবা পেয়ে আবেগাপ্লুত হন রহিমা বেগম। আব্দুল মান্নানের পরিবারের সদস্যরাও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, সরকারি দপ্তরে মানবিক আচরণ ও আন্তরিকতা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সম্প্রতি ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর ফরিদগঞ্জই আমার প্রথম কর্মস্থল। এখানে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা থাকবে। শতভাগ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চাই। জেলার সদর উপজেলায় কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ফরিদগঞ্জের ভূমিসেবাকে আরও সুন্দর ও জনবান্ধব করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভূমি অফিস মানেই ভোগান্তি, সহজে ও স্বল্প সময়ে সেবা পাওয়া যায় না—সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা এমন ধারণা বদলাতে চাই। সেবাপ্রত্যাশীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা পান, সেটিই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা আমি নিজেই তদারকি করছি।’
ভোরের আকাশ/সু.পা