পার্বত্য চট্টগ্রামে তিন কমিটি গঠনে প্রধানমন্ত্রীকে পিসিএনপির ধন্যবাদ

পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটি গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।
এ উপলক্ষে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
পিসিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ রাজুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবুর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, সমঅধিকার নিশ্চিত, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বৈষম্যহীন স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠিত কমিটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরের মধ্যে অতীতে কোনো সরকার এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেতা প্রফেসর আশরাফ আলী আকন্দ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপির উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক কামাল পারভেজ, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ফয়েজ আহমেদ, পিসিসিপির সাবেক সভাপতি ও মাতৃভূমি সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাত ফরাজী সাকিব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও রাঙামাটি জেলা সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খাগড়াছড়ি জেলা আহ্বায়ক কাউন্সিল ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মজিদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, পিসিসিপির সাধারণ সম্পাদক হাবীব আজম, পিসিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল এম এ আমিন এবং দপ্তর সম্পাদক শাহ জালাল।
লিখিত বক্তব্যে কাজী মজিবুর রহমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমাদের দাবী সমূহ:
১। পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনবিধি-১৯০০ বাতিল করে পার্বত্যাঞ্চলে স্বাধীন সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
২। পার্বত্য চট্টগ্রামে সমতলের ন্যায় সংবিধানের আলোকে ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু করা এবং বন্ধ রাখা ভূমি বন্দোবস্ত পূনরায় চালু করে ভূমিহীন বাঙ্গালি ও উপজাতিদের মাঝে ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান করা ও বাজারফান্ড এলাকায় পূর্বের ন্যায় ব্যাংক ঋণ চালু করা। ভূমি কমিশনে বাঙালি সদস্য নিয়োগ সহ উচ্চ আদালতে আপিলের ব্যবস্থা রাখা।
৩। "পার্বত্য চুক্তি” নামক কালো চুক্তি বাতিল করে সংখ্যানুপাতিক ভিত্তিতে সকল জাতিসত্তার সমান অধিকার সংবিধান অনুযায়ী নিশ্চিত করা।
৪। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ১০৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করে ১ কিলোমিটার পর পর বিজিবি'র বিওপি স্থাপন করা।
৫। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অখন্ডতা, জনগণের জান-মাল ও সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যাহারকৃত ১টি ব্রিগেড ও ২৪৬ টি সেনাক্যাম্প পূনঃস্থাপন করে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১টি ডিভিশন স্থাপন করা।
৬। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করা ও নতুন নতুন ছোট-বড়-মাঝারি শিল্পকারখানা স্থাপন করে পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতি/বাঙালিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
৭। শিক্ষা, চাকুরী, ব্যবসার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে সমভিত্তিতে সকলের অধিকার নিশ্চিত করা ও আয়করের বিষয়টি মওকুফের ক্ষেত্রে পার্বত্যবাসী সকলের ক্ষেত্রে সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
৮। তিন পার্বত্য জেলায় পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; যথা- বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রতিটি উপজেলায় ১০০ শয্যা হাসপাতাল ও জেলাগুলোতে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহন করা।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীকো ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সুস্বাস্থ্যতা ও সফলতা কামনা করা
ভোরের আকাশ/জেআ