কাউখালী কলেজের প্রসপেক্টাসে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশংসা

পিরোজপুরের কাউখালী সরকারি মহাবিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণীর নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণকৃত প্রসপেক্টাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের বন্দনার অভিযোগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে রাত দশটা পযন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে স্হানীয় প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে তাদের পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
স্হানীয় ও নবীন ছাএদের সূএে জানা যায়, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীর নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে কলেজ থেকে প্রসপেক্টাস বই বিতরণ করা হয়। বইটির চতুর্থ পাতায় বিগত সরকারের সময়ের একটি লেখায় শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ ও তার বদৌলতে কাউখালী মহাবিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া মহাবিদ্যালয়ের শপথবাক্যে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো’ মর্মে উল্লেখ থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নজরে আসে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথেই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে শত শত শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে কলেজ গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং অধ্যক্ষসহ প্রকাশনার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করেন।
খবর পেয়ে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাঃ জহিরুল ইসলাম এবং কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহানা আক্তার সন্ধ্যায় কলেজে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন।
এ সময় কলেজের বাইরে শিক্ষার্থীরা প্রকাশিত ওই বইয়ে আগুন ধরিয়ে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও স্লোগান দেয়। বিক্ষোভকালে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রকাশনার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা আওয়ামী রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় এবং প্রশাসনের আশ্বাসে রাত দশটার দিকে অবরুদ্ধ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বাবু, বই প্রকাশনা দায়িত্বে থাকা ইংরেজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মোহাঃ মনিরুল ইসলাম ও প্রভাষক রিপন কুমার দাসকে পুলিশের জিম্মায় সোপর্দ করা হয়।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল মাহমুদ সুমন বলেন, এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তারা ফ্যাসিবাদের দোসর এবং গুপ্ত রাজনীতির সাথে যুক্ত। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছে।
কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও কলেজের সাবেক ভিপি শাফিউল আজম দুলাল জানান, বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই কলেজে আওয়ামী লীগের দোসররা ঘাপটি মেরে আছে। আমরা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে কাউখালী সরকারি মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, এই প্রকাশনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না, আমি একটি কমিটি করে দিয়েছিলাম, সেই কমিটি এটি করেছে।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ জানান, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাঃ জহিরুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহানা আক্তারকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/ইউএম