নারী চিকিৎসক অপহরণ মামলায় এক চিকিৎসক গ্রেপ্তার

গাজীপুরের শ্রীপুরে নারী ডাক্তারকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্তক্ত্ করতো ডা. মাহবুব হাসান রায়হান(৩১)। ব্যর্থ হয়ে ওই নারীকে অপহরণ করেন তিনি। প্রাইভেট কারে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে একাধিক ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরে জোরপূর্বক ওই নারীকে বিয়ে করে।
গত ২৭ মে রাতে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের গাড়ারণ এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে।
পরে ছাড়া পেয়ে ভূক্তভোগী নারী বুধবার রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে মামলা রুজি হয়। রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত ডা. রায়হানকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত ডা. মাহবুব হাসান রায়হান উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের বাউনী গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ওই নারী ডাক্তার শ্রীপুর চৌরাস্তার নিউ এশিয়া ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে চাকুরী করেন। অভিযুক্ত রায়হান ওই ক্লিনিকে বিভিন্ন সময় রোগী দেখতেন। এক পর্যায়ে রায়হান ওই নারীর প্রতি আসক্ত হয়ে পরে।প্রেমের প্রস্তাব দিয়েও করতো উত্ত্যক্ত । এক পর্যায়ে ওই নারী ডাক্তার ঢাকায় চলে যেতে প্রস্তুতি নেন। বিষয়টি জেনে রায়হান বেপরোয়া হয়ে উঠে। গত ২৭ মে রাত সাড়ে আটটার দিকে রায়হান ওই নারী ডাক্তারকে সাতখামাইর বাজারের একটি ভাইরাল দোকানে চা পানের প্রস্তাব দেন। ওই নারী ডাক্তার সরল বিশ্বাসে সেখানে যান। চা পান শেষে দু'জনে অটোরিক্সায় ফেরার পথে গাড়ারণ নামক স্থানে একটি প্রাইভেট কার এসে তাদের অটোর গতি রোধ করে।গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা দু'জনকে চোখ বেঁধে প্রাইভেট কারে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ওই নারী ডাক্তারকে চাপ সৃষ্টি করে রায়হানকে বিয়ে করতে। না হলে তাদের এক সাথে ছবি ভিডিও ভাইরাল করে দিবে। পরে জোরপূর্বক একাধিক ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। একই সাথে অন্য আরো কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বিয়ের নাটক সাজায়।বিয়ের পরে ওই নারী ছেড়ে দেয়।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, রায়হান অপহরণের নটাক সাজিয়ে ভিকটিমকে তুলে নেয়। নির্যাতন করে ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। ভিকটিমের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী স্বক্ষর করা ষ্ট্যাম্পও উদ্ধার করা হয়।