সোনারগাঁয়ে একটি ঘরের জন্য অসহায় দিনমজুরের আকুতি

মানুষের বেঁচে থাকা এবং সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য নিজেস্ব একটি বাসস্থান।
বাংলাদেশের সংবিধান ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সাধারণত পাঁচটি মৌলিক চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহল খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। এর মধ্যে বাসস্থান হল এমন একটি মৌলিক প্রয়োজন, যা কিনা শুধু মাথার ওপর একটি ছাদ নিশ্চিত করেনা বরং একজন মানুষের নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা, পারিবারিক স্থিতিশীলতা এবং মানসিক প্রশান্তির কেন্দ্র বিন্দু হল নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে থাকার একটি ঘর। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করে আসছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি এলাকার বাসিন্দা অসহায় দিন মজুর জজ মিয়া। একটি দোচালা টিনের ঘর নির্মাণের জন্য আকুতি জানিয়ে, স্থানীয় ধণাঢ্য ব্যক্তিবর্গসহ ও জনপ্রতিনিধিদের নিকট বছরের পর বছর দৌড়ঝাপ করেও কোন আর্থিক সহায়তা পায়নি সে। সম্প্রতি একটি দোচালা টিনের ঘর নির্মাণের জন্য আকুতি জানিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তিনি। চেঙ্গাকান্দি এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির ভাষ্যমতে, হতদরিদ্র দিনমজুর জজ মিয়া দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে সব সময় সক্রিয় ছিলেন। বর্তমান সময়ে স্ত্রী সন্তানসহ ৫ সদস্যের একটি পরিবার নিয়ে চরম অভাব-অনটনে মাঝে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চালানো জজ মিয়ার এখন প্রাণের আকুতি যে কোনো মূল্যে মাথা গোঁজার জন্য প্রয়োজন একটি ছোট্ট ঘর। জজ মিয়া সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি এলাকার মৃত হযরত আলী ওরফে শনির ছেলে।
চেঙ্গাকান্দি এলাকার বাসিন্দা অসহায় দিনমজুর জানান, আমি দিনমজুরের কাজ করে ৫ সদস্যের একটি পরিবার নিয়ে অভাব অনটনের মাঝে কোনোরকম দিন পাড় করছি। সংসারে অভাব অনটনের মাঝে থাকার পরেও আমার বেশি কিছু চাওয়ার নেই। দীর্ঘদিন ধরে আমি স্ত্রী সন্তান নিয়ে একটি ভাঙ্গাচুরা জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছি। বৃষ্টি ও ঝড় তুফান এলে অনেক ভয় আতঙ্কে পরিবার নিয়ে রাত্রি যাপন করি। শুধু মাথা গোঁজার জন্য একটি ঘর চাই। যদি কোন হৃদয়বান ধনী ব্যক্তি আমার পরিবার নিয়ে থাকার জন্য একটি দোচালা ঘরের ব্যবস্থা করে দিতেন, এতেই আমার স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভালভাবে থাকতে পারতাম আর কোন চাওয়া নেই। হতদরিদ্র দিনমজুর জজ মিয়ার পরিবারের জন্য একটি ঘরের প্রয়োজন জানতে পেরে শাহজালাল মিয়া নামে স্থানীয় একজন গনমাধ্যমকর্মী তাকে সরকারী ব্যবস্থাপনায় কিছু সহযোগিতার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মী শাহজালাল মিয়া জানান, আমার পাশ্ববর্তী এলাকার একজন দিনমজুরের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানার পর তাঁর জন্য সরকারি সহযোগিতায় একটি ঘর নির্মাণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অসহায় একজন দিনমজুরের জন্য একটি ঘর নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
চেঙ্গাকান্দি এলাকার বাসিন্দা একাধিক ব্যক্তি বলেন, একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতার পরিচয়। একজন দিনমজুর অসচ্ছল মানুষের জন্য নুন্যতম আবাসনের ব্যবস্থা হলে তার পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তির মাঝে জীবন কাটাতো তাদের। জজ মিয়ার প্রত্যাশা খুব বেশি নয় ছোট্ট একটি ঘর হলেই তার দুঃখ্য কষ্ট থাকবে না।
উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, আমার ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি এলাকার বাসিন্দা দিনমজুর অসহায় জজ মিয়ার পরিবারের জন্য একটি ঘরের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্যারের নিকট লিখিত আবেদনে আমি সুপারিশ করেছি। আশা করছি স্যার দ্রুত কোন একটা ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
ভোরের আকাশ/ এনউব