মাদারগঞ্জে সরকারি হাসপাতাল
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে নারীর মৃত্যু

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও হাসপাতালের স্টাফদের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
স্বজনদের দাবি, সময়মতো সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) না দেওয়ায় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীর মধ্যে বিষধর সাপের কামড়ের লক্ষণ না থাকায় প্রাথমিকভাবে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত রমিছা বেগম (৫৫) উপজেলার তারতাপাড়া গ্রামের জেলে চান মিয়ার স্ত্রী।
স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার (৬ জুলাই) রাত ৯টার দিকে রমিছা বেগমকে একটি সাপ কামড় দিলে দ্রুত তাকে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও হাসপাতালের স্টাফরা এটিকে বিষধর সাপের কামড় নয়, বরং 'চিকা' বা অন্য কোনো প্রাণীর কামড় বলে ধারণা করেন।
তাদের দাবি, এ কারণে রোগীকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করা হয়নি এবং অ্যান্টিভেনমও দেওয়া হয়নি। পরে হাসপাতালের বাইরে অবস্থানকালে রমিছা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে লিটন মিয়া বলেন, "আমার মাকে সাপে কামড় দেওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে যাই। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়, চিকা বা অন্য কিছু কামড় দিয়েছে। কোনো অ্যান্টিভেনম দেননি। পরে মায়ের অবস্থা খারাপ হলে আবার হাসপাতালে নিয়ে গেলে জামালপুরে পাঠানো হয়। কিন্তু পথে আমার মা মারা যান। চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।"
নিহতের দেবর লাভলু মাস্টার বলেন, "ডাক্তারের অবহেলার কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, "রাতেই রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পরে অবস্থার অবনতি হলে জামালপুরে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাহিদ বলেন, "সাপে কাটা রোগী এলে আমরা সরকারি চিকিৎসা প্রোটোকল অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি বিষধর সাপের কামড়ের বিভিন্ন লক্ষণ—যেমন চোখে ঝাপসা দেখা, ঘাড় বেঁকে যাওয়া ও অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ পরীক্ষা করা হয়। ওই রোগীর মধ্যে এসব লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তাই তখন অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছি।
তিনি জানিয়েছেন, রোগীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়েছিল। অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও রোগীর স্বজনরা তাকে নিয়ে চলে যান। পরে আবার হাসপাতালে নিয়ে এলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" নিহতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভোরের আকাশ/ইউএম