খুলনায় সারের কৃত্রিম সংকট ডিলারের, কৃষকের হাতে মিলছে না সার

খুলনায় ডিলারের কারসাজির কারনে আমন মৌসুমে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের হাতের নাগালে সার নেই, কৃত্রিম সংকট দেখাচ্ছে ডিলাররা।
কয়রা উপজেলায় আমন ধান চাষের ভরা মৌসুমে সারের চরম কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও মজুদ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনের সময় জমিতে প্রয়োগের জন্য চাহিদামতো ইউরিয়া ও টিএসপি সার পাচ্ছেন না প্রান্তিক কৃষকেরা। এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে খণ্ড খণ্ডভাবে ৫ কেজি বা ১০ কেজি করে সার মেলাতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। কোনো কোনো দোকানে আবার সারের সঙ্গে জোরপূর্বক কীটনাশক কেনার বাধ্যবাধকতা দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
কয়রা বাজার, ফুলতলা, গিলাবাড়ি, আমাদী ও বেদকাশী বাজার ঘুরে কৃষকদের দীর্ঘশ্বাসের চিত্র দেখা গেছে। বেদকাশীর কৃষক ইমদাদুল শেখ ও মহারাজপুরের সিরাজুল ইসলাম আক্ষেপ করে জানান, নির্দিষ্ট সময়ে আমন ধানের চারায় সার দিতে না পারলে ফলনে ধস নামবে। অথচ ডিলাররা কৃত্রিম সংকট দেখাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে চড়া দামে সার ও অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক একসাথে কিনতে হচ্ছে।
তবে কৃষকদের এ অভিযোগের বিপরীতে মাঠপর্যায়ের চিত্র ও সরকারি তথ্যের মধ্যে বড় বৈষম্য ফুটে উঠেছে। কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলক কুমার ঘোষ দাবি করেন, "সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়ার ৪৯০ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে অতিরিক্ত ৯০ মেট্রিক টনসহ প্রতি ইউনিয়নে ১৪০০ বস্তা করে সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফসলের বৈজ্ঞানিক প্রয়োজন অনুযায়ী সারের জোগান সঠিক রয়েছে, কৃষকের ‘মনের চাহিদা’ হয়তো মিলছে না।"
অথচ অনুসন্ধানে জানা গেছে ভিন্ন তথ্য। বিভাগের নওয়াপাড়া সার বিপণনকেন্দ্রসহ খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলে বরাদ্দকৃত টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের একটি অংশ ডিলাররা তুলছেনই না। কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে খোলাবাজারে বেশি দামে পাচার করে দিচ্ছেন। সম্প্রতি নড়াইলের লোহাগড়ায় পাচারের সময় ৪০ বস্তা সার জব্দ করেছে প্রশাসন।
কৃষক সমাজের দাবি—সরকারি বরাদ্দের নথি, ডিলারদের উত্তোলন চালান, মজুদ ও বিক্রয় রেজিস্টার প্রকাশ্যে এনে নিবিড় তদারকি করা হোক। গুদামে সার থাকা সত্ত্বেও তা কার স্বার্থে সরবরাহের স্তরে আটকে যাচ্ছে—এই কৃত্রিম জট না ছুটালে চরম হুমকিতে পড়বে এই অঞ্চলের আমন উৎপাদনের সাথে জড়িত কৃষকরা।
ভোরের আকাশ/ এনউব