জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটে ভোগান্তিতে সোনারগাঁয়ের রোগীরা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের একটি বড় অংশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমজীবী মানুষসহ সোনারগাঁ উপজেলায় প্রায় ছয় লাখ মানুষের বসবাস। এসব মানুষের বড় একটি অংশ সরকারি চিকিৎসাসেবা নিতে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভরশীল।
সোনারগাঁবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চার বছর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এ জন্য একটি বহুতল ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, নতুন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পুরোপুরি চালু হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৩১ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে অনুমোদিত ১৬২টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১২২ জন। চিকিৎসক ও নার্সসহ ৪০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে একজন চিকিৎসক ও তিনজন নার্স প্রেষণে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যেও ১৬টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন সহায়ক সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
প্রায় ছয় লাখ মানুষের বিপরীতে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে গড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এ ছাড়া সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বিভিন্ন শিল্পকারখানার বিপুলসংখ্যক শ্রমিকও জরুরি চিকিৎসার জন্য এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভরশীল।
বিপুলসংখ্যক রোগীর তুলনায় প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর বাড়ছে অতিরিক্ত চাপ। এতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা পেতে সময় লাগছে এবং ভোগান্তিও বাড়ছে।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের মধ্যে একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন বিকল থাকায় বর্তমানে এ পরীক্ষা সেবা বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন হাসপাতালের ইসিজি মেশিনও অকেজো ছিল। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান ব্যক্তিগত অনুদানে একটি ইসিজি মেশিন সরবরাহ করায় বর্তমানে ইসিজি সেবা চালু রয়েছে।
হাসপাতালে সরকারি একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটিও প্রায়ই অকেজো থাকে বলে জানা গেছে। ফলে কোনো রোগীর দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অন্যত্র যেতে হয়।
এ ছাড়া হাসপাতালের ভেতরে নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় গত কয়েক মাস ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে সোনারগাঁয়ের সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় জনবল, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাসেল আহমেদ ভূঁইয়া জানান, তিনি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র এক মাস আগে যোগদান করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছেন।
জনবল সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও নতুন জনবল কাঠামো এখনো আইনগতভাবে অনুমোদিত হয়নি। বর্তমানে ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ীই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, জরুরি চিকিৎসার জন্য যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করবে।
ভোরের আকাশ/জেআ