শিরোনাম
চালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলাচালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে ট্রাক থামিয়ে মালামাল চুরি করে অর্ধেক দামে বিক্রি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক এখন যেনো চোরাই পণ্যের নিরাপদ ট্রানজিটে পরিণত হয়েছে। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী বিভিন্ন ট্রাক থেকে রড, সিমেন্ট, সার থেকে শুরু করে চাল, গম, চিনি ও আমদানি করা কার্টন জাতীয় পণ্য কৌশলে নামিয়ে অর্ধেক দামে বিক্রি করছেন চালক ও হেলপার। 

আর সেগুলো কিনে নিচ্ছে স্থানীয় একটি অসাধু চক্র। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলার বৈধ ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিকেরা। তবে সম্প্রতি এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ।

সরেজমিনে ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে চোরাই সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গড়ে উঠেছে একাধিক চোরাই পণ্য কেনা-বেঁচার দোকান। চালক-হেলপারের যোগসাজশে দূরপাল্লার ট্রাকগুলোকে বিভিন্ন কৌশলে এসব চোরাই পণ্য কেনা-বেঁচার দোকান গুলোতে থামানো হয়। পরে ট্রাক থেকে পণ্যের একটি অংশ নামিয়ে নেওয়া হয়। পরে সেই পণ্য স্থানীয় কিছু গুদাম ও দোকানে অর্ধেক দামে বিক্রি করা হয়। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন মূল ব্যবসায়ীরা। তবে সম্প্রতি এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা পুলিশ।

দেশের উত্তর ও দক্ষিনাঞ্চলের যোগাযোগের বড় মাধ্যম সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৮-২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে পণ্যবাহী ট্রাক। আর এই ব্যস্ত মহাসড়ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে চোরাই মালামাল কেনা বেচার চক্র। রাতের আধারে ট্রাক চালকরা মহাসড়কের পাশে গোপন দোকানে ট্রাক থামিয়ে নামিয়ে দিচ্ছেন নানা পণ্য। রাত যতই গভীর হয় ততই জমজমাট হয় এই ব্যবসা। বাজারমূল্যের চেয়ে অর্ধেক বা তার চেয়ে কম দামে এসব মালামাল কিনে নিচ্ছে অস্থায়ী চোরাই দোকানীরা। এসব মালামাল পরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে খোলা বাজারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের নলকা ব্রীজ থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে অস্থায়ী টিনের ঘর তৈরী করে পর্দা টাঙ্গিয়ে বা আড়াল তৈরী করে চলছে এসব পণ্য কেনা-বেঁচা। শুধু রাতের বেলায় নয়, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এসব পণ্য কেনা বেঁচা হলে নেওয়া হয়নি কার্যকর পদক্ষেপ। ফলে সাধারন ব্যবসায়ীরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তেমনী অবনতি হচ্ছে এলাকার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি। বর্তমানে নলকা থেকে হাটিকুমরুল ও এর আশপাশে অন্তত ১৫টি চোরাই পণ্য কেনা বেঁচার দোকান রয়েছে। তবে সম্প্রতি এসব পয়েন্টে অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি পয়েন্টের কর্মচারী বলেন, আমি এই পয়েন্টে কাজ করি। মালিক সব সময় থাকে না। সমস্যা হলে তখন আসে। এখানে কাজ করে দৈনিক ৬০০ টাকা হাজিরা পাই। মহাসড়কের দুই পাশেই অনেক পয়েন্ট আছে। ট্রাক চালক-হেলপাড়রা মালামাল বিক্রি করতে আসলে আমরা কম দামে কিনে নেই। পরে সেগুলো বেশি দামে অন্য জায়গায় বিক্রি করি। শুধু রাতের বেলায় নয়, দিনের বেলাও কাজ হয়।

সম্প্রতি দিনের বেলায় চট্টগ্রাম থেকে রড নিয়ে রংপুরগামী একটি ট্রাক মহাসড়কের পাশের একটি পয়েন্টে ঢোকে। সেখানে ট্রাকের চালক ও সহকারী মিলে প্রায় ১৫ কেজি রড বের করে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। রড কেন বের করে বিক্রি করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ট্রাকের সমস্যা হয়েছে মেরামত করতে হবে। এজন্য রড বিক্রি করেছি। এমন কাজ আগে করিনি। আজই প্রথম। মালিক জানলে চাকরি থাকবে না।

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলম

ব্যবসায়ী জিব্রাইল বলেন, আমি ভাংড়ির ব্যবসা করি। বগুড়া থেকে ট্রাকে করে লোহার রড ঢাকায় পাঠানো হচ্ছিলো। ট্রাকটি যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের পাঁচলিয়া এলাকায় পৌছলে ট্রাক থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা রড নামিয়ে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যায়। সলঙ্গা থানা পুলিশকে অবতগ করি। তিনি বলেন এটি হাইওয়ে থানার মধ্যে। আর হাইওয়ে থানা সলঙ্গা থানার মধ্যে। পরে সলঙ্গা থানার ওসি ঘটনাস্থলে আসলেও মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তিনি আরো বলেন, নলকা থেকে হাটিকুমরুল এবং এর আশপাশে প্রায়ই এসব ঘটনা ঘটছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুর রহমান বলেন, হাইওয়ে থানায় আমি নতুন এসেছি। পুলিশ সুপার স্যারের নেতৃত্বে মহাসড়কে অভিযান চলছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: