স্কুলপ্রাঙ্গণে কিশোরী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা বিএনপি নেতা আটক

গোপালগঞ্জে এক স্কুলছাত্রী (১৩) ও এক তরুণকে প্রকাশ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২ আগস্ট) সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় এলাকা থেকে নয়ন গোলদার (৪৫) নামে ওই নেতাকে আটক করা হয়।
তিনি কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় গ্রামের নীরোদ গোলদারের ছেলে এবং হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুলাই কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অপমান সইতে না পেরে ওই শিক্ষার্থী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাহুথড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
ওসি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া নয়ন গোলদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন স্কুল চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি ওই কিশোরী ও তরুণকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার দিন তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। পরে বিষয়টি জানতে পারেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সময় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ওই শিক্ষার্থী সেদিন বিদ্যালয়ে আসেনি। স্কুলের পোশাক পরে সে রাহুথড় থেকে হাতিয়াড়া গ্রামে যায়। পরে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে এক তরুণসহ ধরে বিদ্যালয়ে নিয়ে এসে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা তখন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। গেটের পাশের ঘটনাস্থল থেকে স্কুল অফিসের দূরত্ব বেশি হওয়ায় তারা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেননি। পরে নয়ন গোলদার তাদের স্কুল অফিসে নিয়ে আসেন এবং অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে শিক্ষার্থীকে ধরে আনার আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তার জানা নেই।
ভোরের আকাশ/সু.পা