গোয়াইনঘাটে যুবদল নেতা বদরুল হত্যা : ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের হাদারপাড় এলাকার বালু ব্যবসায়ী বদরুল আলমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত বদরুল আলমের ভাই মোঃ আখলাকুল আম্বিয়া বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনকে আসামি করে এই এজাহার দায়ের করেন। মামলাটি থানায় নিয়মিত মামলা (মামলা নং-১২, তারিখ: ১৬/১০/২০২৬ইং) হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক বিষয়াদি নিয়ে আসামিদের সাথে বদরুল আলমের বিরোধ চলছিল। গত ১১ অক্টোবর ভোরে বদরুল আলম তার মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে গোয়াইনঘাট থানাধীন ১৩নং বিছনাকান্দি ইউনিয়নের গোরাগ্রাম সাকিনস্থ ৭নং সাক্ষী সোনা মিয়ার বাড়ির সামনের রাস্তায় পৌঁছালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে (দা, সুলফি, চাকু, ঝাঁটা, লাঠি ও লোহার রড) সজ্জিত হয়ে তার গতিরোধ করে।
পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ৬নং আসামি সুয়াইবুর রহমান ছবুর নির্দেশ দিলে অন্যান্য আসামিরা সুলফি, দা, ড্যাগার ও ঝাঁটা দিয়ে বদরুল আলমকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি আঘাত করে মারাত্মক রক্তাত্ত জখম করে। এসময় ১নং সাক্ষী ছাদেক আলী তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আসামিরা তাকেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ছাদেক আলী বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার হাতে বেশ কয়েকটি সেলাই লেগেছে।
মামলার এজাহারনামীয় আসামি হলেন- শাহিনুর রশীদ (২৯), তুহিন আহমদ (২৩), নুরুজ্জামান নুরুজ (২৩), মামুনুর রশীদ (৩৬), ফয়েজ আহমদ (৩২), সুয়াইবুর রহমান (ছবুর) (৩৮), আমিনুর রশীদ (৩২), ছালিম আহমদ (২৫), সাইফ আহমদ (৩৩), নোমান আহমদ (২০), ইমন (২৪)।
এছাড়াও ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তারা সকলেই গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ওমর ফারুক মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এজাহারের ভিত্তিতে পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা