মধুমতির ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের চর মধুপুরে মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মধুমতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে চর মধুপুরের বসতভিটা, ফসলি জমি ও মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। পূর্বপুরুষের শত বছরের স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। ভাঙনের প্রকোপ বাড়লেও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাবাসীর উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মল্লিক কামরুজ্জামান হিটু, আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা, মল্লিক মিজানুর রহমান, মো. তাজিবুর সিকদার, মাসুম মল্লিক, আফসানা বেগম ও শর্মী বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, মধুমতি নদীর ভাঙন শুধু মানুষের ঘরবাড়ি ও জমিজমা কেড়ে নিচ্ছে না, বরং এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার পরিবেশকেও বিপর্যস্ত করছে। ভাঙনের কারণে চর মধুপুর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এলাকার শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিশুদের শিক্ষাজীবন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। চর মধুপুরকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণ ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। এ জন্য নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, স্থানীয় প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসীর জানমাল, বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি নদীভাঙনে বিলীন হওয়া বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা পুনর্নির্মাণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীর পরিদর্শন করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে চর মধুপুরের অবশিষ্ট বাড়িঘর ও আবাদি জমিও একে একে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে বহু পরিবার বসতভিটা হারানোর পাশাপাশি জীবিকা ও নিরাপদে বসবাসের সংকটে পড়বে।
এ অবস্থায় চর মধুপুরের অস্তিত্ব রক্ষা, মানুষের নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করা এবং শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে মধুমতির ভাঙন থেকে গ্রামটিকে রক্ষায় টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা