মান্দা এলজিইডি প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনে নাইটগার্ড

নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে কয়েকটি রাস্তার অনিয়মের অভিযোগের বক্তব্য নিতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা, অশোভন আচরণ এবং ক্যামেরায় থাকা গণমাধ্যমের লোগো সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের এবং তার কার্যালয়ে কর্মরত নাইটগার্ড রেজাউল ইসলাম। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে আনন্দ টেলিভিশন, মোহনা টেলিভিশন, গ্লোবাল টেলিভিশন ও দেশ বর্তমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা মান্দা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য ও প্রকৌশলীর বক্তব্য নিতে যান। কিন্তু বক্তব্য না দিয়ে নাইটগার্ড কে লেলিয়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল কাদের নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের কিছু দায়িত্ব নিজে পালন না করে নাইট গার্ড রেজাউল করিমের মাধ্যমে পরিচালনা করছেন। এতে দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম, দায়িত্বের সীমারেখা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, সরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও একজন নাইট গার্ডের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করা হলে তা প্রশাসনিকভাবে কতটা নিয়মসম্মত—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা সাংবাদিকরা জানান, প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি নিজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে রেজাউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে সামনে পাঠান। ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘সিকিউরিটি গার্ড’ হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় থাকা গণমাধ্যমের বুম সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয় । অফিস সূত্রে জানা যায়, রেজাউল ইসলাম মূলত একজন নাইটগার্ড। তাহলে প্রশ্ন উঠেছে—দিনের বেলায় একজন নাইটগার্ডের দায়িত্ব কী? তিনি কার নির্দেশে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন? সাংবাদিকদের ক্যামেরা বা গণমাধ্যমের লোগোতে হাত দেওয়ার অধিকার বা ক্ষমতা তাকে কে দিয়েছে?
শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের সঙ্গে একজন নিরাপত্তাকর্মীকে সামনে রেখে কথা বলানো এবং তাদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। তাদের প্রশ্ন, একজন প্রকৌশলীর দায়িত্ব কি নাইটগার্ড পালন করবেন? নাকি সরকারি দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পরিবর্তে নিরাপত্তাকর্মীকে দিয়ে সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণের নতুন কোনো নিয়ম চালু হয়েছে?
সচেতন মহলের মতে, সরকারি কোনো দপ্তরে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকা স্বাভাবিক। বক্তব্য দিতে না চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তা জানাতে পারেন। কিন্তু একজন নাইটগার্ডকে দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করানো, ক্যামেরার লোগো সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত কাজে বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই স্বাভাবিক দাপ্তরিক আচরণের মধ্যে পড়ে না।
ঘটনার সময় প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদেরের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দেননি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নাইটগার্ড রেজাউল ইসলামকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য সামনে পাঠানোর পাশাপাশি নিজেও মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন। এ ধরনের আচরণে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে তার ভূমিকা, সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা না বলার কারণ এবং ঘটনাটি আড়াল বা নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টা ছিল কি না—এমন প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকরা বলছেন, গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ শুধু একজন সাংবাদিককে অপমান করা নয়, এটি তথ্য সংগ্রহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করারও অভিযোগ। তাই বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অবিলম্বে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রেজাউল ইসলামের প্রকৃত পদ ও দায়িত্ব কী, দিনের বেলায় তিনি কেন অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা ও ক্যামেরার লোগো সরানোর নির্দেশ তাকে কে দিয়েছেন, প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদেরের নির্দেশে তিনি এসব করেছেন কি না এবং প্রকৌশলী নিজে কেন মোবাইলে ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো সরকারি দপ্তরে সাংবাদিকদের এ ধরনের হয়রানি বা বাধার মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী বদরুদ্দোজা বলেন বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলছি সাংবাদিক তাদের বক্তব্য নেবে এটাই স্বাভাবিক।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত নাইট গার্ড রেজাউল প্রকৌশলী আব্দুল কাদেরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক । পাশাপাশি সরকারি দপ্তরে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন। এমনটাই দাবি সাংবাদিক জনপ্রতিনিধিগন।
ভোরের আকাশ/ এনউব