খুলনার ডুমুরিয়ায় বাঁধ ছিদ্র করে লবন পানি উত্তোলনের ফলে ধসের মুখে বাঁধ

পাউবোর অনুমতি ছাড়া নদী থেকে লবণ পানি উত্তোলনের জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ছিদ্র করে বসানো হয়েছে পাঁচটি পাইপ। দীর্ঘদিন ধরে এসব পাইপ দিয়ে পানি তোলার ফলে বাঁধের ভেতরের মাটি ধসে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত।
এরই মধ্যে বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়েছে। ঝুঁকির মুখে পড়েছে কৈয়া-শরাফপুর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। যে-কোনো মুহূর্তে বাঁধের আরও বড় অংশ ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে জোয়ারের সময় শৈলমারী রেগুলেটর সংলগ্ন জুটমিলের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ২৭/২ নম্বর পোল্ডারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অংশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শৈলমারী এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল হকের পুরোনো ইটভাটার জমি সাহস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্যা মাহাবুর রহমান ক্রয় করেন। পরে ওই জমিতে মাছ চাষের জন্য নদী থেকে লবণ পানি উত্তোলন করতে পাউবোর অনুমতি ছাড়াই পাঁচটি পাইপ বসানো হয়।
সেখানে স্থানীয় কৃষক দলের নেতা গাজী সাইকুল ইসলাম মাছ চাষ করে আসছেন। প্রায় ছয় মাস আগে বাঁধ ছিদ্র করে পাইপগুলো স্থাপন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি উত্তোলনের ফলে পাইপের সংযোগস্থল দিয়ে পানি চুইয়ে বাঁধের ভেতরে প্রবেশ করে। এতে বাঁধের নিচের মাটি সরে গিয়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে গর্তের ভেতর দিয়ে বাঁধের তলদেশ পর্যন্ত মাটি ফাঁপা হওয়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সেখানে ইটভাটার রাবিশ ফেলে দুজন শ্রমিককে বাঁধ সংস্কারের চেষ্টা করতে দেখা যায়। সড়কে চলাচলকারী একাধিক ইজিবাইকচালক জানান, বাঁধের মাটি সরে যাওয়ায় সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে-কোনো মুহূর্তে পুরো অংশ ধসে পড়তে পারে।
এদিকে নদী থেকে লবণ পানি উত্তোলনের কারণে আশপাশের কৃষি জমিতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। আজিজ গাজী, পাপিয়া সুলতানা, মেহেদী হাসান পলাশ ও মোস্তফা গাজীসহ অর্ধশতাধিক মানুষের ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। অনেকের বাড়ির আঙিনায়ও লবণ পানি উঠেছে। এতে কৃষিকাজ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা।
জমির মালিক মোল্যা মাহাবুর রহমান বলেন, ওখানে আগে থেকেই পাইপ বসানো ছিল। গুটুদিয়ার সাইকুল গাজী আমাদের জমিতে মাছ চাষ করে আসছেন। মাছ চাষের প্রয়োজনে তিনি হয়তো পানি উত্তোলন করেছেন। তবে যাতে বড় ধরনের ক্ষতি না হয়, সে জন্য ভাঙনস্থলে খোয়া ও রাবিশ ফেলে মেরামতের কাজ চলছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, বাঁধে পাইপ বসানোর কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। অবৈধভাবে বাঁধ ছিদ্র করে পানি উত্তোলন করা হয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে বলেছি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অংশে মেরামত করে দিতে।
ভোরের আকাশ/সু.পা