১৫ দিন পর মুক্তিপণে ছাড়া পেলেন টেকনাফের দুই জেলে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

দীর্ঘ ১৫ দিনের বিভীষিকাময় বন্দিজীবনের অবসান ঘটেছে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া এলাকার অপহৃত দুই জেলে মোহাম্মদ কাশেমের পুত্র আব্দুর রহমান ও রাহমত আলির পুত্র ফরিদ আলমের। তবে মুক্তি মিললেও শেষ হয়নি তাদের দুর্ভোগ। টানা নির্যাতনে গুরুতর আহত হওয়ায় বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের দাবি, অপহরণকারীদের ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অপহরণের শিকার ওই ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত ১৩ জুলাই টেকনাফের পালংখালী খাল ও উলুবনিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় মাছ ধরতে গেলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আব্দুর রহমান ও ফরিদ আলমকে অপহরণ করে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। অপহরণের পর তাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিয়ে গিয়ে একটি গহিন বনাঞ্চলের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। সেখানে দিনের পর দিন চলে অমানবিক নির্যাতন। একপর্যায়ে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। পরে দীর্ঘ দর-কষাকষির পর পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় করে দুই জেলেকে মুক্তি দেয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
ভুক্তভোগীরা আরও জানিয়েছে, ২৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে টেকনাফের হ্নিলা সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর অপহরণকারীরা পুনরায় মিয়ানমারের দিকে চলে যায়। খবর পেয়ে সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা দুই জেলেকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ ২৮ জুলাই মঙ্গলবার তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া দুই জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ ১৪ দিনের নির্যাতনে দুই জেলের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সাথে এ ঘটনায় জড়িত অপহরণকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভোরের আকাশ/এম