সংবিধান সংশোধনে সব সম্প্রদায়ের মতামত চায় পিসিসিপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ‘সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’র মতবিনিময় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি জনগোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন পিসিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক হাবীব আজম।
পিসিসিপির নেতারা বলেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে রোববার (৪ অক্টোবর) সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। তাদের অভিযোগ, ওই বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বাঙালি জনগোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
তবে ৪ অক্টোবরের বৈঠক শেষে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংবিধান সংশোধন নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, নারী নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও আইনজীবী, শিক্ষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছে কমিটি।
পিসিসিপির নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম-সংক্রান্ত যেকোনো নীতি নির্ধারণ কিংবা সংবিধান সংশোধনের মতো জাতীয় ও সংবেদনশীল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাহাড়ে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে হলে সব জনগোষ্ঠীর সমান অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো জনগোষ্ঠীকে আলোচনার বাইরে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পাহাড়ে অসন্তোষ ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বাঙালি ও অবাঙালি—উভয় পক্ষের সঙ্গে সমভাবে আলোচনা করে নিরপেক্ষ পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি প্রতিনিধিদেরও মতবিনিময় প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানায় পিসিসিপি।
সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে সংবিধান বা পাহাড়-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হলে এর ফলে সৃষ্ট অসন্তোষ ও পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
পিসিসিপির দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেই সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় মতামত গ্রহণ করা হোক।
ভোরের আকাশ/জেআ